বেসিক সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বা এসইও

যেকোন ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে প্রথম পেজে স্থান দিতে এর অপ্টিমাইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, আর এই অপ্টিমাইজেশনের পুরু পক্রিয়াকে বলা হয় সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বা সংক্ষেপে এসইও ।

ডিজিটাল মার্কেটিং করতেও এসইও অনেক গুরুত্ব বহন করে । এক সমীক্ষা অনুযায়ী বলা যায় , একটি ওয়েবসাইটের মোট ট্রাফিকের 65 ভাগ আসে সার্চ ইঞ্জিন থেকে আর বাকি 35 ভাগ আসে অন্যান্য প্লাটফরম থেকে । আর তাই এসইও ব্যাতীত শত  ভাগ সফলতা আশা করা যায় না ।

এসইও তথাপি সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন এ নিজেকে এক্সপার্ট করতে চাইলে আপনাকে সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে সে বিষয়ে অবগত হতে হবে ।

বেসিক সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বা এসইও

সেরা সার্চ ইঞ্জিনগুলো যেমন google, yahoo অথবা bing এ যখন আপনি আসবেন  এবং যে কোন বিষয়ে সার্চ দিবেন, সাথে সাথে সার্চ ইঞ্জিন আপনাকে কয়েক ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যে আপনার বিষয় বা কিওয়ার্ড রিলেটেড অনেকগুলো ওয়েবসাইট , ব্লগসাইট এবং সোস্যাল প্লাটফরম আপনার সামনে উপস্থাপন করবে ।

বলে রাখা জরুরী, এখানে সার্চ ইঞ্জিন কিছু প্রোগ্রাম তৈরি করে রাখে যাতে করে সার্চদানকারী ব্যাক্তি তার কিওয়ার্ডের জন্য সেরা ওয়েবসাইগুলো পায় ।

আর একজন এসইও এক্সপার্ট ব্যক্তিকে সেই সফলতা অর্জনের জন্য ওয়েবসাইকে ওয়েল অপ্টিমাইজ করে দিতে হয়  । এখন এক নজরে জেনে নেই কি কি করতে আর জানতে হয় একজন এসইও এক্সপার্ট ব্যক্তিকে ।

এজন্য প্রথমে যে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হয় তা হল কিওয়ার্ড । কিওয়ার্ডের সাথে সম্পর্কযুক্ত হল কনটেন্ট । আপনার কনটেন্টটি কিওয়ার্ড সমৃদ্ধ হতে হবে । তাহলেই হবে এসইও ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট । কনটেন্ট মোডিফায়ার দ্বারা কনটেন্টকে মোডিফাই করতে হবে । ডেনসিটি রাখা যাবে মাত্র 3% । হেডিং ট্যাগ ও অন্যান্য ট্যাগ দ্বারা কনটেন্টকে মোডিফাই করে দিতে হবে  যেন সার্চ ইঞ্জিন  পড়তে পারে এবং কনটেন্ট থেকে কোন  কীওয়ার্ড টাইপ করা মাত্র র‌্যাংক এনে দিতে পারে । কনটেন্ট তৈরী করতে কিওয়ার্ড রিচার্স করতে হবে । কিওয়ার্ড রিচার্সেই 60 ভাগ এসইও সম্পন্ন হয়ে যাবে ।

keyword research

কিওয়ার্ড কে সবোর্চ্চ প্রইরোটি দিতে হবে র‌্যাংক পেতে হলে। কিওয়ার্ড রিচার্সের জন্য বিভিন্ন ফ্রি ও পেইড টুল পাওয়া যায় । প্রথম অবস্থায় ফ্রি টুল দিয়ে প্র্যাকটিস করতে হবে এবং পরবর্তীতে পেইড টুল ব্যবহার করতে হবে দ্রুত কাজ করার জন্য । দ্রুত ভিজিটর পাওয়ার জন্য লং টেইল কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে । এর জন্য লং টেইল প্রো নামক পেইড টুল ব্যবহার করা যায় এবং ফ্রি ওয়েব টুল পাওয়া যাবে অনলাইনে । এগুলো থেকে লো কমপিটিটিভ কিওয়ার্ড বাছাই করতে হবে । লো কমপিটিটিভ কীওয়ার্ড বের করার জন্য একটি ফরমোলা অনুসরণ করতে হবে মানথলি সার্চ ভীলিউম সর্বনিন্ম ১০ থাকতে হবে । কিওয়ার্ডের জন্য প্রথম পেজে অবস্থানকারী সকল ওয়েবসাইটের পেজ অথরিটি এবং ডোমেইন অথরিটি ২০এর নিচে থাকতে হবে, তাহলেই লো কমপিটিটিভ সাইট বলে বিবেচিত হবে । আর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা  শুরু থেকেই ভিজিটর পাবো । আমার এই লেখাটিও আপনার কাছে পৌছানোর পেছনে সবচাইতে যে বড় বিষয়টি কাজ করেছে তা হলো এসইও ।

সবই এক সাথে বলার কারণে নতুনরা হয়তো কিছুই বুঝতে পারলেন না, কঠিন ভাবার কারণ নেই , পুরো আর্টিকেলে সবই সহজ হয়ে যাবে ।

এসইওকে তিনভাগে ভাগ করা যায় ।

লিগালিটির উপর ভিত্তি করে এসইও কে দুই ভাগে ভাগ করা যায় ।

যথা :  1. হোয়াইট হাট এসইও                                                                                                                                                   2.ব্ল্যাক হাট এসইও 

অর্থ প্রদানের উপর ভিত্তি করে আরও দুইভাগে ভাগ করা যায় ।

যথা:  1. পেইড এসইও                                                                                                                                                          2.অর্গানিক এসইও

কাজের ধরণ অনুযায়ী  এসইও কে অন্য দুই ভাগে ভাগ করা যায় ।

যথা : 1. অনপেইজ এসইও

                                  2.অফপেইজ এসইও

আমরা আমাদের আলোচনায় ছয়টি  বিষয়েই বিষদ আলোচনা করব । তাহলে আলোচনার প্রথমেই যে বিষয়টি আসবে তা হলো হোয়াইট হাট এসইও ।

হোয়াইট হাট  এসইও :

হোয়াইট হাট  এসইও হল এমন এসইও যা সার্চ ইঞ্জিনের সম্পূর্ণ রোল এন্ড রেগুলেশন মেনে চলে ।একে ইথিক্যাল এসইও বলে । আমার এই ওয়েব সাইটটি এসইও রিলেটেড সাইট । এসইও বিষয়ে যাদের জানার আগ্রহ তারাই যেন  এই ওয়েবসাইটে আসে এবং আসার পর যেন এই বিষয়ে ধারণা পায় , এসে যেন অন্য বিষয় না পায় তাহলেই সম্পন্ন হবে হোয়াইট হ্যাট এসইও । এজন্য অবশ্যই রিলিভেন্ট সাইটে লিংক বিল্ডিং করতে হবে এবং মানসম্পন্ন কনটেন্ট লিখতে হবে । আমার কনটেন্টও এসইও রিলিভেন্ট হতে হবে ।

ব্ল্যাক হাট এসইও :

সার্চ ইঞ্জিনের চোখে ধোয়াসা দিয়ে ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান কারী কোন ওয়েবসাইটে লিংক বিল্ডিং করে , সম্পূর্ণ  স্প্যামিংভাবে ফোরাম পোস্টিং করে এবং টাকার বিনময়ে অবৈধ ভাবে সার্চ  ইঞ্জিনের প্রথমে আসার কৌশলকে ব্ল্যাক হাট এসইও বলে । তবে ব্ল্যাক হ্যাট এসইওর দিন সমাপ্ত । সার্চ ইঞ্জিনের রোবট রিড করা মাত্র পেনাল্টি নিশ্চিত । কাজেই এ বিষয় আমরা খুব বেশি মনোনিবেশ করব না ।

পেইড এসইও :

এসইওর একটি মাধ্যম হল পেইড এসইও । এখানে কোন প্রকার কাজ না করেও ভিজিটর পাওয়া যায় । কিন্তু এর জন্য অর্থ পেইড করতে হয় সার্চ ইঞ্জিনকে । বড় ই-কমার্স সাইটগুলো পেইড এসইও করে থাকে । প্রথম অবস্থায় পেইড এসইও নিয়ে না ভাবাই ভালো ।

অর্গানিক এসইও :

অর্গানিক এসিও হল অফপেইজ ও অনপেইজ এর সমন্বিত রুপ । অর্গানিক এসইও করা সর্বোত্তম পন্থা । অর্গানিক এসইও করলে র্দীর্ঘদিন সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেইজে থাকা যায়।পেইড এসইও থেকে অর্গানিক এসইওতে ভিজিটর ট্রাস্ট বেশি পায়  ।

অনপেজ এসইও :

ওয়েবসাইটের ভেতরে যত প্রকার কাজ করা হয় সবই অনপেজ এসইও । অনপেজের কাজগুলো হল মেটা ট্যাগ , মেটা ডেসক্রিপশন, টাইটেল নির্ধারণ , কনটেন্ট লিখা এবং এতে হেডিং , কোটেশন ট্যাগ , এম্প্যাসিস ট্যাগ , স্ট্রং ট্যাগ দ্বারা মোডিফাই করা । কনটেন্ট এর ভিতর অপ্টিমাইজ ইমেজ , ভিডিও ব্যবহারের কৌশল সবই অনপেজ এর অন্তভুর্ক্ত ।  অর্থাৎ একটি ওয়েবসাইটকে বহি:প্রকাশ করার সকল কাজের মাধ্যমেই অনপেইজ এসইও সম্পন্ন হয় । আমরা ধাপে ধাপে এর ব্যাখ্যা করব এবং অনপেইজ এসইওকে আপনার কাছে ফুটিয়ে তোলব :

অনপেইজ অপ্টিমাইজেশন করতে আমাদের যা করতে হয়, তা হলো :

  • বিভিন্ন সার্চ ইঞিনে ওয়েবসাইটকে সাবমিট করা
  • বিভিন্ন টুলের মাধ্যমে ওয়েবসাইটকে ভেরিফাই করা
  • বিভিন্ন অ্যনালাইক টুলের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করা
  • সাইট ম্যাপ তৈরি এবং সাবমিট করা
  • নিয়মিত পর্যবেক্ষণ

কিন্তু এসব কাজ করার পূর্বে ওয়েবসইটকে এসইও ফ্রেন্ডলি করে নিতে হবে । এসইও ফ্রেন্ডলি না হলে ওয়েবসাইট সাবমিট করেও খুব বেশি লাভবান হওয়া যাবে না, কারণ সেখানে ভিজিটর আসবে না । এ জন্য সার্চ ইঞ্জিনগুলোর বর্তমান এলগরিদম জানতে হবে । কি কি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে সার্চ ইঞ্জিন রাংক দেয় তার বর্তমান আপডেটগুলো হল : টাইটেল ট্যাগ , মেটা ডেসক্রিপশন, কিওয়ার্ড রিচার্স, মেটা কিওয়ার্ড, হ্যাডিং ট্যাগ, ইমেজ অল্টার ট্যাগ, ইন্টারনাল লিংকস, ইউআরএল/পারমালিংক স্ট্রাকচার , এ্যাংকর টেক্সটস, কনটেন্ট অপ্টিমাইজেশন ।

On Page Seo

আমাদের মধ্যে যারা এসইও শিখে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করব তারা সাবমিট করার পূর্বে  এই বিষয়গুলো অবশ্যই পর্যবেক্ষণ করব । বর্তমানে ওয়েবসাইট সাবমিটের অনেক কাজ পাওয়া  বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে , বেশিরভাগ ক্লায়েন্টের রিকোয়ারমেন্ট থাকে ওয়েবসাইট অডিট বা অমরাও ক্লায়েন্টকে একটি প্রোপোজালে জুড়ে দিতে পারি । এর মূল কাজই হল এগুলো পর্যবেক্ষণ করা । এগুলো ক্লায়েন্টের সাথে আলোচনা করে নেবেন । তাহলে ক্লায়েন্ট উপকৃত হবে এবং আমরাও বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারব ।

আমারা এখন অনপেইজ এসইওর  গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো পর্যায়ক্রমে আলোচনা করব :

টাইটেল:

এসইওতে টাইটেল ট্যাগ অনেক গুরুত্ব বহন করে । সার্চ বটস টাইটেল ট্যাগকে প্রথমে সনাক্তকরে ওয়েবসাইটটি কোন বিষয়ের উপর করা হয়েছে । এটি কি ই-কমার্স সাইট , ব্লগ সাইট, নাকি অন্য কোন নিসকে টার্গেটকরে করা হয়েছে ।

মেটা ডেসক্রিপশন :

এখন আমরা মেটা ডেসক্রিপশন টপিকে আলোকপাত করব । মেটা ডেসক্রিপশন এইচটিএমল এর এমন একটি ট্যাগ যার ভেতর কনটেন্ট এর পুরো বিষয়টি সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করতে হয় । মেটা ডেসক্রিপশন না দিলেও সার্চ ইঞ্জিন কনটেন্টের প্রথম পেরাকে মেটা ডেসক্রিপশন হিসেবে নিয়ে নেয় । আর তাই প্রথম পেরাকে মেটা ডেসক্রিপশন এর মতই সাজিয়ে রাখতে হবে যাতে মেটা ডেসক্রিপশন লিখতে ভুলে গেলেও সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট আইকেচি ভাবে প্রতিফলিত হয়  । প্রতিটি পেইজে মেটা ট্যাগ দিতে হবে । এটা  সার্চ ইঞ্জিন রিড করে এবং রাংকিং এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।

কিওয়ার্ড :

কিওয়ার্ড হল ওয়েব রাংক এর অন্যতম প্রাণ । আর তাই এসইও এক্সপার্টরা মনে করেন কিওয়ার্ড রিচার্স যদি পরিপূর্ণূভাবে সম্মন্ন হয়, তাহলে ৬০% কমপ্লিট হয়ে যাবে । কারণ, সার্চ ইঞ্জিনের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী কিওয়ার্ড রিচার্স সম্পন্ন কনটেন্ট ব্যতীত রাংকিং অনেকাংশে অসম্ভব । এমনকি ডোমেইন নাম নেওয়া থেকে শুরু করে সর্ব কাজে কিওয়ার্ড রিচার্স করতে হবে । কিওয়ার্ড রিচার্স করার জন্য আমরা ফ্রি ও পেইড দুটো প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে পারি । তবে প্রথম অবস্থায় ফ্রি মেথড ফলো করব এতে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পাবে । পরবর্তীতে আমরা পেইড মেথড ব্যবহার করব কাজের দ্রুততা আনার জন্য । ফ্রি মেথড ব্যবহার করার কৌশল হিসেবে কিছু এক্সটেনশন ব্যবহার শিখতে হবে । কিওয়ার্ড রিচার্স করতে যে বিষটি বেশি লাগে তা হল মান্থলি সার্চ ভ্যালু অর্থাৎ মাসে কতজন লোক উক্ত কিওয়ার্ড লিখে সার্চ দেয় । এর জন্য একটি যুগান্তকারী এক্সটেনশন হল  Keywords Everywhere .

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সবসময় লাগে তা হল ওয়েবসাইটের ডোমেইন অথরিটি ও পেইজ অথরিটি জানা । এর উপর ডিপেন্ড করে আমরা লো কমপিটিটিভ সাইট নির্বাচন করতে পারব । এর জন্য যে টুলবার বেশি কাজে লাগবে তা হল MozBar. এটি যে কোন ব্রাউসারে এক্সটেনশন হিসেবে পাবো । লোকাল ও গ্লোবাল ট্রেনডস জানার জন্য গুগুলের একটি চমৎকার ওয়েবটুল আছে তা হল Google Trends । এর মাধ্যমে আমরা যে কোন দেশের ট্রেনডস জানতে পারব । কিওয়ার্ড রিচার্স করতে হলে আমাদের এক্সেল এক্সপার্ট হতে হবে ।

সব ঠিকঠাক থাকলে আমরা কিওয়ার্ড রিচার্স ‍শুরু করতে পারি । প্রথমে এক্সেল শীট ওপেন করি , এখানে প্রথম কলামে keywords, msv, da>30, low competitive site , domain age. এখন কিওয়ার্ড লিপিবদ্ধ করার পালা প্রথমে নিশ লিখে গুগুল সার্চ বক্সে সার্চ দেই , দেখব গুগুল নিচের দিকে কিছু কিওয়ার্ড সাজেস্ট করেছে  , সেখান থেকে মান্থলি সার্চ ভলিউম ১০ এর বেশি এবং সুন্দর সুন্দর কিওয়ার্ড বাছাই করব । এগুলো প্রাথমিক পযার্য় , এরপর গুগুলে ‍কিওয়ার্ড ফাইন্ডার লিখে সার্চ দিলে অনেক প্রকার ওয়েব টুল পাওয়া যাবে । সেখান থেকে কিওয়ার্ড সংগ্রহ করা  যাবে ।

সব শেষ, কিওয়ার্ড নেব Google Keyword Planner থেকে । এভাবে যত বেশি কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করব, তাতে রিচার্সের ভিত্তি তত মজবুত হবে । ডোমেইন এইজ চেকারের জন্য Webconfs ওয়েব টুল ব্যবহার করব ।

মেটা কিওয়ার্ড :

মেটা কিওয়ার্ডকে প্রায় সার্চ ইঞ্জিনের সকল অ্যালগরিদম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে । কিন্তু কিওয়ার্ড রিচার্স করে পযাপ্ত কিওয়ার্ড থাকবে , সেখান থেকে কিছু কিওয়ার্ড মেটা কিওয়ার্ড হিসেবে দিয়ে দিতে পারি । আমারা চাইব না মেটা কিওয়ার্ড না থাকায় ওয়েব সাইটি ‍অসূম্পর্ণ থাকবে । আর এজন্য মেটা ‍কিওয়ার্ড আমরা দিয়ে দেব ।

হেডিং ট্যাগ :

হেডিং ট্যাগ অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে এসইওর ক্ষেত্রে । হেডিং ট্যাগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে রিড করে সার্চ ইঞ্জিন  বট । হেডিং ট্যাগ হিসেবে রিচার্স করা লো কমপিটিটিভ কিওর্য়াড রাখতে পারলে দ্রুত সার্চ ইঞ্জিনে চলে আসা যায় । আমাদের সবসমই খেয়াল রাখতে হবে যাতে করে হেডিং ট্যাগ যেন কনটেন্ট এর সাথে যেন রিলিভেন্ট থাকে ।

ইমেজ অল্টার ট্যাগ :

ইমেজ  সার্চ ইঞ্জিন রিড করতে পারে না কিন্তু ইমেজ অল্টার ট্যাগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ইনডেক্স করে । কাজেই পাঠককে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য প্রযোজন মোতাবেক ইমেজ অল্টার ট্যাগ সহ ইমেজ দিতে হবে । ইমেজ সার্চ ইঞ্জিনের ইমেজ অংশে দ্রুত রাংক করে যা ওয়েবসাইটে ভিজিটর  আনতে সহয়তা করে ।

ইন্টারনাল লিংক :

কনেন্ট লেখার সময় প্রয়োজনে  পাঠককে বিস্তারিত জানানোর জন্য বা বাড়তি ইনফরমেশন দেওয়ার লক্ষ্যে  নিজের ওয়েবসাইটের মধ্যে রিলিভেন্ট রেখে ইন্টারনাল লিংক করাতে হবে এতে করে ইন্টারনাল লিংক বিল্ডিং সম্পন্ন হয়  ।

অফপেজ এসইও :

ওয়েবসাইটের বাইরে ওয়েবসাইটকে কেন্দ্র করে যে এসইও পরিচালিত হয় তাকে অফপেজ এসইও বলা হয় । অফপেইজ এসইও বলতে লিংক বিল্ডিং কে বোঝানো হয় ।

অফপেইজকে আয়ত্ত করতে হলে এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে এবং জানতে হবে কি কারণে বা কিসের ভিত্তিতে সার্চ ইঞ্জিন অফ পেইজকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে । একটি উদাহরণ এর মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হলো , সার্চ বারে কেউ ভাল বই এসইওর জন্য লিখে সার্চ দিলো তখন সার্চ ইঞ্জিন বট অবশ্যই এসইওর জন্য ভাল বই সম্বলিত সাইট প্রদর্শন করবে । কিন্তু কিসের ভিত্তিতে সার্চ বট এ কাজ করবে সে তো আর মানুষ নয় , আর এ জন্য তাকে অবশ্যই কোন না কোন কৌশল অবলম্বন করতে হবে । এখন সে কৌশলটি কি হতে পারে তাই হবে এখন জ্ঞাতব্য বিষয়। যদি সে শুধুমাত্র কনটেন্ট এর ভিত্তিতে করে তাহলে দেখা যাবে বই সম্পর্কে যে কন্টেটি আছে তা তথ্যবহুল হলেও বইটি তেমন ভাল না, তাহলে দেখা যাবে সার্চ ইঞ্জিনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে । তাহলে এখন কিসের ভিত্তিতে সেরা নির্বাচন করবে ? একটা উপায় তো অবশ্যই অবলম্বন করবে তা হলো ব্যাকলিংক বা ফিডব্যাক, অর্থাৎ এই বই সম্পর্কে অন্য ওয়েবসাইট কি বলে ? সবাই যদি ভাল বলে তাহলে অবশ্যই ভাল । এখন আমরা  অনুধাবন করতে পারলাম ব্যাকলিংক তথা অফপেইজ এসইওর গুরুত্ব কতটুকু ।

লিংক শেয়ারিং :

অফপেইজ এসইও করার শুরুতেই যে বিষটি আসবে তা হল লিংক শেয়ারিং । লিংক শেয়ারিং অনেকটা ভোটের মতো । এখন লিংক শেয়ারিং সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে সুস্পষ্ট করা হবে । শেয়ারিং হলো এমন একটি মাধ্যম যাতে আদান প্রদান ঘটবে । রিলিভেন্ট সাইটগুলোতে আমরা কিছু লিংক দেব এবং কিছু লিংক নেব । তাহলে কিভাবে ঘটবে এটা , বাস্তবিক রিলিভেন্ট সাইটগুলোতে যোগাযোগ নেই কিন্তু কৌশল অবলম্বন করলে অবশ্যই ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে ।

Link Sharing

এবার জানব কৌশলটি কি হতে পারে ? কৌশলটি হল কোন স্প্যাপিং করা যাবে না সম্পূর্ণ ন্যাচারাল ওয়েতে কাজ চালিয়ে নিতে হবে । একটি উদাহরণ দিলে অনেকটা পরিষ্কার হওয়া যাবে যেমন আমি এসইও নিয়ে আর্টিকেল লিখতে শুরু করলাম কোন প্রসঙ্গ লিখতে গিয়ে ছোট ব্রিফ করলাম কিন্তু তা বোঝার জন্য যথেষ্ট নয় কিন্তু এটিই বিস্তারিত দেওয়া আছে উইকিপিডিয়ায় যা আমি লিংক করে দিলাম । এতে পাঠক কিন্তু চলে গেল উইকিপিডিয়ায় , এতে প্রশ্ন থাকতে পারে এতে আমাদের ওয়েবসাইটের কি লাভ হল ? হ্যাঁ হল তা হলো একটি ভাল ওয়েসাইটের লিংক পাওয়ায় পাঠক আমাদের ওয়েবসাইটের প্রতি ট্রস্ট লেভেল বেড়ে যাবে । এখন প্রশ্ন থাকতে পারে , আমরা কি তাহলে লিংক দিয়েই যাবো ? উত্তর না , আপনি একটু নিচের দিকে খেয়াল করলেই দেখতে পারবেন উইকিপিডিয়া সকল ওয়েবসাইট থেকে বেছে বেছে তথ্য নিয়েই তাদের আর্টিকেলগুলো লিখে থাকে অর্থাৎ আপনি যদি ভাল মানের আর্টিকেলগুলো আপনার ওয়েবসাইটে লিপিবদ্ধ করতে পারেন তবে একসময় দেখা যাবে আপনার লেখা ওয়েবসাইটের আর্টিকেল থেকে তথ্য নেয়ার বিনিময়ে আপনার ওয়েব সাইটের লিংক দিয়ে দিবে, আর তা হবে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকলিংক । আর এভাবেই ভাল মানের ওয়েবসাইটগুলো লিংক শেয়ার করে থাকে ।

স্প্যামিং : অফপেইজ এসইও করতে গেলে একটি বিষয় বার বার সামনে আসবে তা হলো স্প্যামিং । এখন আমরা  স্প্যামিং সম্পর্কে জানব । স্প্যামিং কি ? স্প্যামিং হলো করা নিষেধ, কিন্তু বার বার করা হচ্ছে । একটি উদাহরণে স্পষ্ট হওয়া যাবে । যেমন, আমি একটি এসইও বিষয়ে আর্টিকেল লিখলাম কিন্তু এক ভদ্রলোক  কমেন্ট বক্সে এসে তার আম বিক্রির ওয়েব সাইটের কিছু বলে, কমেন্ট করে গেল । এটা ইলিগ্যাল কাজ করল , আমার এসইও রিলেটেড আর্টিকেল পড়ে শুধুমাত্র এসইও বিষয়ে লিংক দেওয়া যাবে কাজেই এসইও ব্যতীত সকল লিংক বিল্ডিংই স্প্যামিং বলে  গণ্য হবে ।

এখন আমরা আলোচনা করব অফপেইজ অপ্টিমাইজেশন করতে হলে কি কি করতে হবে বা কি কি কাজের সমন্বিত রুপ হল অফপেইজ অপ্টিমাইজেশন ।

অফপেইজ অপ্টিমাইজেশন করতে হলে আমাদের যা করতে হবে :

  • স্যোসাল বুকমার্কিং
  • কমেন্ট ব্যাকলিংক
  • ফোরাম পোস্টিং
  • গেস্ট/ব্লগ পোস্টিং + আর্টিকেল সাবমিশন
  • ওয়েব 2.0 ক্রিয়েসন
  • ডিরেক্টরি সাবমিশন
  •  স্যোসাল মিডিয়া শেয়ারিং ইত্যাদি

আমরা  এখন উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব ।

স্যোসাল বুকমার্কিং :

স্যোসাল বুকমার্কিংকে বলা হয় ভার্চুয়াল লিংক ডায়েরী । স্যোসাল বুকমার্কিং লিংক যে কোন জায়গা থেকে প্রবেশ করতে পারি এবং বন্ধুদের শেয়ার করতে পারি । সোস্যাল বুকর্মাকিং এর একটি জনপ্রিয় সাইট হচ্ছে ডিগ.কম।

কমেন্ট ব্যাকলিংক :

বিভিন্ন রিলিভেন্ট সাইটে গিয়ে পুরো আর্টিকেলটি পড়ে কমেন্ট বক্সে গিয়ে কমেন্ট করে একটি কমেন্ট ব্যাকলিংক সেরে ফেলতে পারি , এটি অফপেজ এসইও এবং ওয়েব সাইটের জন্য গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এতে রিলিভেন্ট সাইটগুলোর মধ্যে সম্পৃতির তৈরি হয়, যার ফলশ্রুতিতে ওয়েবসাইটের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ফোরাম পোস্টিং :

ফোরাম হল প্রশ্ন করা এবং উত্তর পাওয়ার এক অনন্য ওয়েবসাইট যা অফপেইজ এসইওর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ওয়েব সাইটকে ব্যাকলিংক করাতে চাইলে ফোরামগুলোতে সম্পৃক্ত থাকা অনেকটাই বাধ্যতামূলক । আমরা আমাদের রিলিভেন্ট সাইটের উপর প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে আমাদের সাইটটিকে লিংক করিয়ে দিয়ে আসতে পারি , এতে করে অনেক ট্রাফিক জেনারেট হবে ।

গেস্ট/ব্লগ পোস্টিং + আর্টিকেল সাবমিশন :

গেস্ট বা ব্লগ পোস্টিং এবং আর্টিকেল সাবমিশন করে একটি ভাল মানের অফপেইজ এসইও তথা ব্যাকলিংক কার্য সম্পাদন হয়ে থাকে । এসব করার জন্য অনেক ওয়েব সাইট পাওয়া যাবে তাদের মধ্যে হাই অথরিটি সম্পন্ন সাইট নির্বাচন করে, সেখানে একাউন্ট করে ভাল মানের আর্টিকেল সাবমিশন করতে হবে, ফলে দ্রুত এপ্রোভ হয় ।

ওয়েব 2.0 ক্রিয়েসন :

অফপেইজ এসইও অর্থাৎ ব্যাকলিংক করতে চাইলে একটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে লিংক হুইল তৈরির মাধ্যমে, এতে ওয়েব 2.0 ক্রিয়েশন করতে হয় । আর ওয়েব 2.0 করার বহু সাইট বিদ্যমান উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল ব্লগার.কম, ওইবলি.কম; ওয়ার্ডপ্রেস.কম এবং টাম্বলার.কম । এতে থিম ডেভেলপমেন্ট করে এবং রিলিভেন্ট কনটেন্ট দিয়ে মেইন ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করে লিংক হুইল তৈরি করা যায় ।

ডিরেক্টরি সাবমিশন :

অফপেইজ করার জন্য ডিরেক্টরি সাবমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ । ডিরেক্টরি সাবমিশন করার জন্য অনেক ওয়েবসাইট পাওয়া যাবে এদের মধ্যে হাই অথরিটি সাইট সিলেকশন করতে হবে, একটি ভাল ফলাফলের জন্য । এবার ডিরেক্টরি সাইটগুলোতে গিয়ে সাইনআপ করে ওয়েবসাইট ক্যাটাগরী ভিত্তিক সাবমিশন করতে হবে এতে করে সাইটগুলো রাংক করলে অটোমেটিক আমাদের ওয়েবসাইটটিতে ট্রাফিক জেনারেট হবে ।

স্যোসাল মিডিয়া শেয়ারিং :

ওয়েবসাইটে স্যোসাল মিডিয়া শেয়ারিং এর অপশন থাকতে হবে যাতে করে প্রাতিটি পোস্ট করা মাত্র তা সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শেয়ারিং করে দেওয়া যায়, এতে করে ইনস্ট্যান্ট ভিজিটর পাওয়া যাবে । আরও একটি বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে তা হলো, যদি কারও পোস্টটি ভাল লাগে তাহলে তারাও পোস্টটি শেয়ার করার সুযোগ পাবে, এতে ট্রাফিক বাড়বে ।

Mithun Chandra Majumder

Categories: এসইও

Mithun Chandra Majumder

Mithun Chandra Majumder, SEO expert in Bangladesh. I have been working in social media marketing for a long time. I have also a very good experience in affiliate marketing. I have been working in many different marketplaces with many expert people.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *