ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলোপমেন্ট

ওয়েবডিজাইন এবং ডেভেলোপমেন্ট ওয়েবসাইট তৈরির দুটি সুনির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ধাপ । একটির সাথে আরেকটি ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত, ওয়েব ডিজাইন ব্যতীত ডেভেলোপমেন্ট সম্ভব নয় ঠিক তেমনি ডেভেলোপমেন্ট ব্যতীত ওয়েব ডিজািইন অসম্পূর্ণ ।

নতুনদের মনে নানান প্রশ্নের মধ্যে , একটি কমন প্রশ্ন ওয়েবডিজাইন নাকি ওয়েব ডেভেলোপমেন্ট ?

আর তাই বিতর্কদূর করতে আমি বলব দুটোই শিখুন । প্রথমে ওয়েব ডিজাইন শিখুন এবং পরবর্তীতে ওয়েব ডেভেলোপমেন্ট শেখার জন্য নিজেকে তৈরি করুন । ওয়েব ডিজাইন একটি ব্যাপক প্লাটফরম ওয়েব ডেভেলোপমেন্ট জগতে । তবে যারা ওয়েব ডিজাইনে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে চান  তাদের ডেভেলোপমেন্ট পার্ট না জানলেও চলবে । কিন্তু ওয়েব ডেভেলোপার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে, তাদের ওয়েব ডিজাইনে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করতে হবে ।

web design and development

এখন আমরা আমাদের  আলোচনায়  ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলোপমেন্ট দুটি বিষয়েই  আলোকপাত করব :

ওয়েব ডিজাইন :

ওয়েব ডিজাইন হল একটি ওয়েব সাইটের ফ্রন্ট অংশ । আমরা ওয়েব সাইটের  দিকে তাকালে যে অংশ দেখতে পাই তার পুরো অংশ জুড়ে যে ডিজাইনের ছড়াছরি থাকে, তার পুরোটাই ওয়েব ডিজাইনারের কাজ । এ উদ্দেশ্যে ডিজাইনারকে একটি টেমপ্লেট তৈরি করে নিতে হয়, যা তাকে করতে হয় ইলাস্ট্রেটর বা ফটোশপ দিয়ে । যদিও ইলাস্ট্রেটর বা ফটোশপ ওয়েব ডিজাইনের কোন অংশ নয় , তারপরও ডিজাইনকে সুন্দর করতে এবং কাজের গতিকে ত্বরন্বিত করতে এর ব্যবহার জানার বিকল্প কোন  মাধ্যম নেই । ওয়েব ডিজাইনারকে এক্সপার্ট হতে হলে ইলাস্ট্রেটর বা ফটোশপ এর বেসিক লেভেল হলেও শিখতে হবে । অন্তত  Photoshop দিয়ে লেআউট (PSD) ডিজাইনিং শিখবেন। কিভাবে PSD to HTML করতে হয় জানবেন। এরপর Javacript, PHP, MySQL । তারপর WordPress, Joomla, Durpal, Opencart, Prestashop etc জানবেন। Static ওয়েব ডিজাইনিং ভাল ভাবে শিখবেন।

CMS সম্পর্কে একটা ভাল  ধারণা নিতে হবে, এবার এ বিষয়ে একটু ধারণা নেয়া যাক । কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা সিএমস হলো একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামের এমন একটি ওয়েব সিস্টেম যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটের ভেতর বিভিন্ন কনটেন্ট যেমন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি সম্পাদনা, প্রকাশ ও পরিবর্তন করা হয় । সাধারণত এই ধরণের সিস্টেমে আগেই কিছু প্রোসিডিওর বা ফাংশন লেখা থাকে যেগুলো পরিবর্তন করে যে কোন ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় । জটিল ও বিশাল কোড লেখার ধারণা থেকে বেড়িয়ে এসে ওয়েবসাইট ডেভেলোপমেন্ট প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য সিএমএস তৈরি করা হয়েছে ।কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ধারণার প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৯০ সালে । জনপ্রিয় কয়েকটি কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা সিএমএস এর নাম : ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা, ম্যাজেন্টা, পিএইচপি-নুক ইত্যাদি ।

থাক , আমরা বেসিক লেভেলে ফিরে আসি । ওয়েব ডিজাইনার হতে হলে আপনাকে অবশ্যই বেসিক লেভেল থেকে এডভান্স লেভেল পর্যন্ত এইচ টি এম এল জানতে হবে । এর বিকল্প কোন পথ নেই । শুধুমাত্র এইচ টি এম এল বিষয়ে পারদর্শী হলেই , আপনার ওয়েব ডিজাইন পার্টের ৫০% সম্পন্ন হবে । কারণ একটি স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটের পুরুটাই সম্পন্ন হয়ে যায়, শুধুমাত্র এইচটিএমএল কোডিং গুলো সুন্দরভাবে সাজালেই ।

নতুনদের মনে উৎসাহ নিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে এই এইচটিএমএল কোডিং শিখব কোথা থেকে ?

এইচটিএমএল :

এইচটিএমএল শেখার পূর্বে এর সম্পর্কিত একটি প্রাথমিক ধারণা থাকা বঞ্ছনীয় । এইচটিএমএলকে বলা হয় মার্ক আপ ল্যাঙ্গুয়েজ । এইচটিএমএলে এর মার্ক আপ ট্যাগ ব্যবহার করে বেসিক কাঠামো তৈরি করা হয় । মূলত এটি কোন প্রোগ্রামিং  ল্যাঙ্গুয়েজ নয়, মার্ক আপ ল্যাঙ্গুয়েজ যা একসারি মার্ক আপ ট্যাগ এর সমন্বয়ে তৈরী । সর্বপ্রথম এইচটিএমএল ধারণার প্রবর্তন করেন কম্পিউটার বিজ্ঞানী টিম বার্নাস লি ১৯৮০ সালে যখন তিনি সার্ন প্রতিষ্ঠানে একজন ঠিকাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন । এইচটিএমএল  এর বর্তমানে ৫ ভার্সন চলতেছে । এখানে অডিও , ভিডিও , ইমেজ সবই লিপিবদ্ধ করা যায় । এইচটিএমএল শিখতে কিছু শব্দ বার বার আসবে , সেগুলো হল এইচটিএমএল ট্যাগ, এইচটিএমএল অ্যাট্রিবিউট এবং এইচটিএমএল এলিমেন্ট । ট্যাগগুলোতে তিনটি অংশ থাকে ওপেনিং ট্যাগ, কনটেন্ট অংশ এবং ক্লোজিং ট্যাগ । উদাহরণস্বরুপ < ওপেনিং ট্যাগ > কনটেন্ট অংশ < /ক্লোজিং ট্যাগ> w3c এইচটিএমএল তৈরি এবং মেনেজমেন্টের দায়িত্ব পালন করে ।

web design and development

ইন্টারনেট ব্রাউজারে গিয়ে প্রশ্ন রাখলেই হাজারো সাইট বেরুবে এইচটিএমএল কোডিং শেখার জন্য ? এখান থেকে আপনাকেই ডিসেশন মেইক করতে হবে কোন ওয়েবসাইটটি আপনার সাথে যায় ? তবে w3school.com ওয়েব সাইটটি আপনার বিবেচনায় রাখতে পারেন । কারণ এখানে অনেকটা সহজ ইংরেজী ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে যা আপনার জন্য সহজ বোধগম্য হতে পারে । তবে এর থেকে হাই অথরিটি সাইট আছে , আপনি চাইলে সেখান থেকেও শিখতে পারেন । কিছু বাংলা ওয়েব সাইট আছে যারা কোডিং শেখায় , আপনি চাইলে সেখান থেকে হেল্প নিতে পারেন । তবে কোডিং শিখতে আপনাকে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে । ধৈর্য না থাকলে আপনি কোডিং গুলিয়ে ফেলতে পারেন যা আপনার বিরক্তির কারণ হয়ে আপনাকে অনীহার পথে ঠেলে দিতে পারে । প্র্যাকটিস করার জন্য বা শিখার জন্য নোটপ্যাড ++ ব্যবহার করব যা কোডিং শেখার জন্য যাদুকরী ভান্ডারের মত কাজ করবে । ইন্টানেটে সার্চ দিলে আরও কিছু  একই সফটওয়্যায় পাওয়া যাবে,  চাইলে সেগুলোও ব্যবহরে করতে পারি ।

এইচটিএমএল শেখা শেষ হয়ে গেলে আমাদের যে বিষয়ে আলোকপাত করতে হবে তা হল সিএসএস ।

সিএসএস :

সিএসকে পূর্ণরুপে ব্যাখ্যা করে বলা হয়,  ক্যাসকেডিং স্টাইল শীট । ওয়েব সাইটের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সিএসএস এর ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই । সিএসএস দিয়েই এইচটিএমএলকে প্রাণ দিতে হয় । এইচটিএমএল এর লেখাগুলো কোন কালার হবে, কোথায় ব্যানার থাকবে , কোন অংশে ইমেজ প্রদর্শিত হবে তার সবই নির্দেশনা দিয়ে দিতে হয় সিএসএস দ্বারা ।

web design and development

সিএসএস সিলেক্টর ও ডিক্লারেশন ব্লকের সমন্বয়ে সিএসএস সিনটেক্স তৈরি করতে হয় । সিএসএস এ সিলেক্টরকে প্রধান্য দিতে হয় , তাই বলা হয় সিলেক্টরকে নিজের মাথায় আনতে পারলে আপনার সিএসএস শেখা ৬০ ভাগ সম্পন্ন করা হয় । বিভিন্ন সিলেক্টর দিয়ে এইচটিএমএল এর ইলিমেন্ট সিলেক্ট করতে হয় । সিলেক্টর বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে হলে, দুটি বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে আর তা হলো এইচটিএমএল ইলিমেন্ট ও অ্যাট্রিবিউট । সিএসএস এ কাজ করার সময় আরেকটি বিষয় আমাদের সামনে বার বার আসবে তা হলো রুল সেট বা রুল । যেমন সিলেক্টর বা ডিক্লারেশন মিলে একটা রুল । সিলেক্টর, প্রপারর্টি, ভ্যালু তিনটি বিষয় ভালো করে আয়ত্ব করে নিতে হবে সিএসএস শেখার পূর্বে । পুরো সিএসএস শেখার সময় এ বিষয়গুলো বার বার আবর্তন ঘটবে ।

সিলেক্টর :

যে এইচটিএমএলকে টার্গেট করে বা সিলেক্ট করে রুল লেখা হয় তাকে সিলেক্টর বলা হয় । সাধারণত id, class বা নাম দিয়ে কোন এইচটিএমএলকে সিলেক্ট করতে হয় ।

প্রোপার্টি:

সিএসএস এ হাজারের অধিক প্রোপার্টি বিদ্যমান আছে । সবগুলোর ব্যবহার বাস্তবে হয় না । আর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করে এর জটিলতা বৃদ্ধি না করাই শ্রেয় । নিয়মিত প্র্যাকটিসের মাধ্যমে প্রায় সব প্রোপার্টি আমাদের রপ্ত হয়ে যাবে । কাজই এটা জটিল কোন দিক নয় ।

ভ্যালু :

ভ্যালু হল মান , এটা প্রোপার্টির সাথে জুড়ে দিতে হয় । ভ্যালু পরিবর্তন করে ওয়েবসাইটকে সৌন্দর্যমন্ডিত করতে হয় ।

তবে প্রোপার্টি ও ভ্যালু বের  করার গোপন টিপস হল থার্ড পার্টির সফটওয়্যার ফটোশপ ও ইলাস্ট্রেটর ব্যবহার করা । এতে সিএসএস বের করার জন্য আলাদা অপশন আছে । যা আপনাকে রপ্ত করতে দিনের পর দিন লাগতে পারে । তবে ভ্যালু ও প্রোপার্টি পরিবর্তন করে করে, নিজেকে এক্সপার্ট তৈরি করে নিতে পারেন ।

ওয়েব ডিজাইনে নিজেকে এক্সপার্ট করে তুলতে আরও একটি বিষয়ে আপনাকে এক্সপার্ট হতে হবে তা হলো জাভাস্ক্রিপ্ট । জাভাস্ক্রিপ্ট সম্পর্কে বেসিক নিদর্শনগুলো আলোকপাত করা হল :

জাভাস্ক্রিপ্ট:

জাভা এবং জাভাস্ক্রিপ্ট দুটো ভিন্ন বিষয়,  তাই সহমত হওয়ার কোন সুযোগ নেই । স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজগুলোর মধ্যে জাভাস্ক্রিপ্ট ইন্টারনেটে ব্যবহারিত সবচাইতে জনপ্রিয় স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ । জাভাস্ক্রিপটকে বলা হয় ক্লায়েন্ট সাইট স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ বা ব্রাউজার স্ক্রিপ্টিং । জাভাস্ক্রিপ্টে প্রোটোটাইপ ভিত্তিক স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ যাতে পরিবর্তনশীল, দুর্বল টাইপ  এবং প্রথম ফাংশন আছে । এটি একটি অবজেক্ট-অরিএন্টেড ডইনামিক প্রোগ্রমিং ভাষা । নেটস্কেপের প্রকৌশলী ১৯৯৫ সালে ব্রেন্ডন আইকন জাভাস্ক্রিপ্ট  তৈরি করেন । জাভাস্ক্রিপ্টে আপনি সবসময় ব্যবহার করতে পারবেন ডেটা টাইপ , অপারেটর এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু অবজেক্ট । জাভাস্ক্রিপ্টে সংখ্যা, বুলিয়ান, স্ট্রিং, ফাংশন বা অবজেক্ট  এই টাইপগুলো বিদ্যমান । অবজেক্টের মধ্যে ফাংশন, অ্যারে, ডিলিট, নাল , আনডিফাইন্ড বিদ্যমান আছে ।

web design and development

web design and development

জাভাস্ক্রিপ্ট হল ওয়েব ডিজাইনের প্রাণ স্বরুপ । জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করেই কোন অংশকে অ্যানিমেটেড করা হয় । আর তাই ওয়েবসাইটকে আইকেচি করতে জাভাস্ক্রিপ্ট এর বিকল্প কোন কিছু নেই ।

আর তাই আমরা বলতে পারি আপনি যদি এইচটিএমএল , সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্ট বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করেন, তবে যে কোন ওয়েব সাইট তৈরী করতে এবং ডিজাইন করতে পারবেন ।

এখন আমরা অবগত হব কিভাবে ওয়েব ডেভেলোপমেন্ট করতে হবে এবং কি কি জ্ঞান থাকা প্রয়োজন ওয়েব ডেভেলোপার হবার জন্য তার সবই আলোচনা করা হবে পরবর্তী ধাপে । ওয়েব ডেভেলোপার হবার জন্য আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং  এক্সপার্ট হতে হবে যে কোন একটি ল্যাংগুয়েজে । 

 

তবে একথা স্বীকার্য যে ওয়েব ডিজাইন ওয়েব ডেভেলোপমেন্টের একটি বৃহত্তম অংশ । ওয়েব ডেভেলোপমেন্টের এ অংশকে বলা হয় ফন্ট-ইন্ড ওয়েব ডেভেলোপমেন্ট ।

আর এর একটি বৃহত্তম অংশ ব্যাক-ইন্ড ডেভেলোপার । মূলত এ অংশেই ডেভেলোপমেন্টের পুরো কার্য সম্পন্ন হয় । ব্যাক ইন্ড ডেভেলোপাররা একটি ওয়েব সাইটের ফাংশনালি যে কার্যকলাপ তা সম্পন্ন করে । তারা প্রোগ্রামিং করে ফাংশন তৈরি করে এবং ডাটা কালেক্ট করার সকল প্রক্রিয়াদি সম্পন্ন করে ।

ওয়েব যত দিন থেকে যাত্রা শুরু করেছে ঠিক ততদিন থেকে ওয়েব ডেভেলোপমেন্ট এর যাত্রা শুরু । মানুষ প্রতিনিয়ত তার ওয়েব সাইটকে আইকেচি ও ইউজার ফ্রেন্ডলি করার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে । আর তাই দিনকে দিন ওয়েব ডেভেলোপারের প্রয়োজনীয়তা বেড়েই চলছে । ওয়েব ডেভেলপমেন্টের জন্য বিভিন্ন ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার রয়েছে যেমন বার্কলে ডিবি,  এলএএমপি (লিনাক্স, অ্যাপাচি, মাইএসকিউএল, পিএইচপি) স্ট্যাক এবং পার্ল । ওয়েব ডেভেলপমেন্টকে সহজসাধ্য করেছ সাহায্যকারী কিছু সফ্টওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে  যা হাইপার টেক্সট মার্কাআপ ল্যাংগুয়েজকে প্রভাবিত করে সেসব হলো অ্যাডোবি ড্রীমওয়েভার, ব্লোগ্রিফন , মাইক্রোসফট ভিজুয়্যাল স্টিডিও, সাবলাইন ও পিএইচপিস্ট্রম । কিন্তু বেসিক আপনাকেই শিখতে হবে এর জন্য প্রচুর পেইড ও ফ্রি মেথড ভিডিও টিওটোরিয়াল, ইন্টারনেট ই-বুক , পিডিএফ , ট্যাকনিকাল বুক , মুখোমুখি ট্রেইনিং পাবেন । দিন দিন টুলস এবং টেকনোলজির  ব্যাপকতা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা কাজে লাগিয়ে ডায়নামিক ও ইন্টারঅ্যাকটিভ ওয়েব সাইট তৈরি করা সম্ভবপর হয়েছে অতি সহজেই ।

ওয়েব ডেভেলপমেন্টের নেতৃত্বে যোগাযোগ এবং বানিজ্যের নাটকীয় রূপান্তরের উদাহরণগুলি হলো ই-কমার্স। অনলাইন ই-কমার্স সাইট যেমন EBay , Amazon.com, Buy.com এ গ্রাহকরা পণ্য এবং পরিষেবাগুলি ক্রয় করতে পারে । ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নেতৃত্ব দেয় ব্লগ, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন যেমন ওয়ার্ডপ্রেস এবং  ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটগুলির । ওপেন সোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং এন্টারপ্রাইজ কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের বর্ধিত ব্যবহারের ফলে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের অনলাইন ইন্টারঅ্যাকশন এবং যোগাযোগের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এছাড়াও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কিং এবং বিপণন প্রভাবিত করেছে। ওয়েবসাইটগুলি আর কাজ বা বাণিজ্যের জন্য কেবলমাত্র সরঞ্জাম নয়, তবে যোগাযোগ এবং সামাজিক নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য আরও বিস্তৃতভাবে পরিবেশন করে। ফেসবুক এবং টুইটারের মত ওয়েব সাইটগুলি ব্যবহারকারীদের সাথে যোগাযোগের আরো ব্যক্তিগত এবং ইন্টারেক্টিভ পদ্ধতির সাথে যোগাযোগের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম এবং সংগঠন সরবরাহ করে।

বাস্তবিকই,  ওয়েব ডেভেলপারদের মধ্যে মৌলিক আন্তঃসম্পর্কিত দক্ষতা / ভূমিকা থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে:

গ্রাফিক ডিজাইন / ওয়েব ডিজাইন

ইনফরমেশন আর্কিটেকচার এবং কপিরাইট করা / কপিরাইট করা ওয়েব ব্যবহারযোগ্যতা, অ্যাক্সেসযোগ্যতা এবং সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনের সাথে ।

মোবাইল প্রতিক্রিয়া :

উপরোক্ত তালিকাটি একটি সহজ ওয়েবসাইটের উন্নয়ন অনুক্রম এবং সমস্ত ক্লায়েন্ট সাইড এবং সার্ভার পার্শ্ব দিকগুলি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রসারিত করা যেতে পারে। এটি এখনও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সাধারণত ক্লায়েন্ট-সাইড কোডিংয়ে বিভক্ত হয়ে যায়, যেমন লেআউট এবং ডিজাইনার এবং সার্ভার-সাইড কোডিংয়ের দিকগুলি, যা ওয়েবসাইটের কার্যকারিতা এবং ব্যাক-এন্ড সিস্টেমগুলিকে জুড়ে দেয়।

আমরা এখন গুরুত্ব দেব ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলোপার হওয়ার প্রতি । আমাদের সবার এমন টার্গেট নিয়েই সামনের দিকে এগুনো দরকার । ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলোপার হল সেই ব্যক্তি যিনি ফ্রন্ট ইন্ড এবং ব্যাক ইন্ড দুটো কাজ এক সাথে করতে পারে এবং ওয়েব সিস্টেম ডেভেলোপ করতে সব দিকে সহযোগীতা করতে পারবে । ব্যাক ইন্ড করার জন্য যে কোন একটি ল্যাংগুয়েজে দক্ষ হতে হবে । তবে প্রথম অবস্থায় পিএইচপি দিয়ে শুরু করা ভাল । বিশ্বের ৬০ ভাগ ওয়েব সাইট পিএইচপি ল্যাংগুয়েজ দিয়ে তৈরি । ফ্রন্ড ইন্ড তৈরি করতে হবে এইটিএমএল , সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে । ডাটাবেস তৈরির জন্য মাইসকুল ব্যবহার শিখতে হবে । আর সবগুলো কাজ একসাথে করতে হয় একজন ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলোপারকে । আবার একটি মজার বিষয় হলো শুধুমাত্র জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়েও ফুল ডেভেলোপ করে ফেলা যায় । ভাবতে অবাক লাগলেও বাস্তব । এর জন্য ব্যবহার করতে হবে জাভাস্ক্রিপ্ট এর ফ্রেমওয়ার্ক । যেমন : react.js, angular.js .

এগুলো দিয়ে ফ্রন্ড-ইন্ডের কাজ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় । আর ব্যাক-ইন্ডের জন্য ব্যবহার করতে পারি meteor.js

বর্তমানে ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলোপমেন্ট একটি জনপ্রিয় পেশা । কতিপয় জনপ্রিয় অনলাইন প্রোগ্রামিং লেকচার পাওয়া যায়  লিন্ডা.কম এ । এছাড়াও কিছু ব্যক্তিবর্গ ব্লগিং করে এ বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে থাকে । আপনি যদি কখনও কোডিং নাও করে থাকেন , এ লেখা আপনাকে উৎসাহ দেবে এবং আপনার বেসিককে মজবুদ করবে । একজন ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলোপমেন্ট হওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই আলোচনা করা হবে ।

ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলোপার হবার জন্য আপনার যা লাগবে :

০১. ইচ্ছাশক্তি :

ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলোপার হবার জন্য ইচ্ছাশক্তি প্রবল হতে হবে । কারণ ইহা একদিনে গড়ে ওঠবে না , দীর্ঘদিন সাধনা করে সফলতার শীর্ষে অবস্থান করতে হবে । ইচ্ছাশক্তির বিকল্প কিছু হতে পারে না । শিখার এবং নতুন কিছু তৈরি করার এক প্রবল ইচ্ছাশক্তি নিয়ে এ সেক্টরে আসতে হবে ।

০২. শিক্ষাগত যোগ্যতা :

যেহেতু পুরু প্রোগ্রামিং সিস্টেমটিই ইংরেজি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে, তাই আপনাকে ইংরেজি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে । প্রোগ্রামিং একটি সৃজনশীল কর্মদক্ষতা, তাই আপনাকেও কৌশলী হতে হবে ফুল স্ট্যাক ওয়েব ডেভেলোপার হবার জন্য । এর জন্য আপনাকে বড় ডিগ্রীধারী না হলেও চলবে কিন্তু যারা কম্পিটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশুনা করে তারা বেশি এক্সপার্ট হয় কিন্তু যারা অন্য বিষয়ে লেখাপড়া করে তারাও চাইলে নিয়মিত প্র্যাকটিসের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে । একটি বিষয় সরার উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখা ভাল, অপনি যে বিষয়েই ডিগ্রিধারী হোন না কেন আপনাকে স্বশিক্ষিত হতে হবে এর বিকল্প কোন কিছু হতে পারে না । পৃথিবীতে এটি  এমন একটি সেক্টর, যেখানে কোন ফাঁকি চলে না ।

০৩.প্রয়োজনীয় উপকরণ :

উপকরণ বললে প্রথমেই আসবে একটি ভাল কনফিগারেশন সম্পন্ন কম্পিউটার বা ল্যাপটপ অপরটি হল ইন্টারনেট সংযোগ । ইন্টারনেটের স্পীড যত ভাল হবে, কাজের গতি তত বৃদ্ধি পাবে ।

০৪.দক্ষতা :

কম্পিউটার চালাতে পারতে হবে , নিজে নিজে ইন্টারনেট ব্রাউজ করত পারার এবং নিজে নিজে ইন্টারনেটে থাকা নিজের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করার দক্ষতা থাকতে হবে ।

এখন নতুনদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে কি কি শিখতে হবে আর কিভাবে শিখব ?

 

আপনাদের সুবিধার্থে একটি মডিউল দেওয়া হলো কিন্তু এর বাইরেও আরও মডিউল পাবেন  ইন্টারনেটে সার্চ দিলে , চাইলে সেগুলোও ফলো  করতে পারেন।

কিন্তু একটি আদর্শ মডিউলের নমুনা নিচে দেওয়া হল :

মডিউল এক : ওয়েব গঠন, বিষয়বস্তু এবং উপস্থাপনা

– ওয়েব, ওয়েবসাইট এবং ইন্টারনেট সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে
– কিভাবে ওয়েব কাজ করে তা বুঝতে হবে
– ওয়েব স্ট্রাকচার এবং কনটেন্টের প্রযুক্তিগত ধারণা নিতে হবে
– ওয়েব প্রেজেন্টেশনের প্রযুক্তিগত ধারণা নিতে হবে
– এইচটিএমএল এর ইতিহাস জানতে হবে
– বেসিক এইচটিএএল এর গঠন গুরুত্ব সহকারে শিখতে হবে
– এইচটিএমএল এর ট্যাগ,ইলিমেন্ট এবং অ্যাট্রিবিউট সম্পর্কে বিস্তর ধারণা নিতে হবে
— এইচটিএমএল টেক্সট ফরমেটিং ইলিমেন্ট জানতে হবে
– এইচটিএমএল ফরম এবং ইনপুট ইলিমেন্ট নিয়ে ধারণা নিতে হবে
– এইচটিএমএল টেবিল এবং লিস্ট সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে

-সিএসএস এর ইতিহাস
– সিএসএস এর বেসিক জানতে হবে
– গার্ড এর লেআউট জানতে হবে
– বেসিক নেভিগেশন মেনু জানতে হবে
– স্ট্যাটিক সাইট সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে

– বুটস্ট্র্যাপের জানতে হবে
– বুটস্ট্র্যাপ গার্ড স্ট্রাকচার শিক্ষতে হবে
– বুটস্ট্র্যাপ ফরম, ইনপুট ইলিমেন্ট এন্ড টেবিল শিখতে হবে

মডিউল দুই : ওয়েব বিহেবিয়ার

-ওয়েব বিহেবিয়ার জানতে হবে
-ওয়েব বিহেবিয়ারের প্রযুক্তিগত দিক জানতে হবে
– জাভাস্ক্রিপ্ট ইতিহাস এবং বেসিক সিনট্যাক্স জানতে হবে
– জাভাস্ক্রিপ্টের মাধ্যমে এইচটিএমএল এবং সিএসএস এর ব্যবহার শিখতে হবে
DOM বুঝতে হবে
DOM এর কাজ জানতে হবে
– জাভাস্ক্রিপ্ট লাইব্রেরীর ব্যবহার শিখতে হবে
JQuery বেসিক সিনট্যাক্স শিখতে হবে
JQueryদ্বারা এইচটিএমএল ও সিএসএস এর সাথে কাজ করা শিখতে হবে
– জনপ্রিয় JQuery প্লাগইন জানতে হবে

মডিউল তিন : পদ্ধতিগত পিএইচপি
-সার্ভার সাইট প্রযুক্তি বুঝতে হবে
-পিএইচপির ইতিহাস জানতে হবে
-পিএইচপি ইনভাইরোনমেন্ট ডেভেলোপ বুঝতে হবে
-পিএইচপি বেসিক সিনট্যাক্স জানতে হবে
-পিএইচপি Variable & Data Typeজানতে হবে
– পিএইচপি অপারেটর শিখতে হবে
-পিএইচপি conditional & repeated statement শিখতে হবে
-পিএইচপি super global Array শিখতে হবে
-বেসিক ইনপুট এবং আউটপুট শিখতে হবে
-ফাংশন বুঝতে হবে
Function Definition & Calling জানতে হবে
Built in & User Functionসংঙ্গায়িত করতে হবে
-জনপ্রিয়  String related Function শিখতে হবে
-জনপ্রিয় Array related Functionশিখতে হবে

মডিউল চার : অবজেক্ট অরিয়েন্টেড পিএইচপি

OOPএর ধারণা বোঝা
-ক্লাসের সাথে পরিচিতি লাভ
-মেথডের সাথে পরিচিতি লাভ
-অবজেক্টের সাথে পরিচিত লাভ
-মোডিফায়ার এর কাজ শিখা
-বাস্তবজীবনের সাথে OOPসমন্বয়
-কিছু ম্যাজিক মেথড শিখতে হবে
-কমপোজার শিখতে হবে
-অটোলোড জানতে হবে
-নেমস্পেস এর সাথে পরিচিতি লাভ
-ট্রেইট এর সাথে পরিচিতি লাভ

মডিউল পাঁচ : ডাটাবেস সার্ভার

-ডাসাবেস সার্ভারের সাথে পরিচিতি লাভ
-মাইসকুল ডাটাবেসের কাজ শেখা
-ডাটাবেস তৈরি , টেবিল তৈরি শিখতে হবে
-এসকিউএল শিখতে হবে
-ডাটাবেস সার্ভার এসকিউএল মাধ্যমে কর্ম সঞ্চালন
CRUD অপারেশন শিখা
-ডেটাবেস সার্ভারে ডেটা সংরক্ষণ
-ডাটা এডিট এবং আপডেট
-ডাটা ডিলিট
-থার্ড পার্টির লাইব্রেরী ব্যবহার
DOMPDF সম্পর্কে পরিচিতি লাভ
DOMPDF দিয়ে পিডিএফ তৈরি

এখন অপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অপনি কি কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম  শিখবেন ? নাকি মডেল ভিউ কন্ট্রোলার শিখবেন । তবে এ নিয়ে বিস্তারিত ধারাবাহিকভাবে লেখা হবে পরবর্তী পোস্টগুলোতে ।

web design and development


Mithun Chandra Majumder

Mithun Chandra Majumder, SEO expert in Bangladesh. I have been working in social media marketing for a long time. I have also a very good experience in affiliate marketing. I have been working in many different marketplaces with many expert people.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *