ফানডামেন্টাল অফ ডিজিটাল মার্কেটিং

ডিজিটাল প্লাটফরম ব্যবহার করে যে মার্কেটিং করা হয় , তাকে ডিজিটাল মার্কেটিং বলে । আমাদের আলোচনা যেহেতু ফানডামেন্টাল অফ ডিজিটাল মার্কেটিং সেহেতু মার্কেটিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং এ দুটি বিষয়ের উপর সমন্বয় ও পার্থক্য , উপকারিতা এবং অপকারিতা সবগুলো বিষয় প্রাধান্য পাবে । শুরুতেই আমরা আলোকপাত করব , মার্কেটিং বিয়য়ের উপর । মার্কেটিং কি ? এ বিয়য়ের উপর পরিপূর্ণ ধারণা থাকলে ডিজিটাল মার্কেটিং বুঝতে অনেকটা সহজসাধ্য মনে হবে  

মার্কেটিং কি ?

সাধারণভাবে মার্কেটিং হল পণ্যের প্রচার ও প্রসার  । কিন্তু একজন সফল মার্কেটারকে চারটি বিষয়ের উপরই সমানভাবে গুরুত্বারূপ করতে হয় । এ চারটি বিষয় হল প্রোডাক্ট, প্রাইস , প্লেস এবং  প্রমোশন

আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ মার্কেটিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং সমন্ধে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হল :

প্রোডাক্ট :

যে পণ্যটি নিয়ে মার্কেটিং করব তার কোয়ালিটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হল কিনাএ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে । ভাল মার্কেটিং এর জন্য ভাল প্রেডাক্ট দরকার ।

প্রাইস :

প্রোডাক্টের সঠিক দাম নির্ধারণ যা উৎপাদনকারী ও গ্রহণকারী ভোক্তা উভয়ের কাছে সহনীয় হয় । প্রাইস আর কোয়ালিটি একটি সুন্দর মার্কেটিংয়ের দুটি অপরিহার্য দিক ।

প্লেস :

যেখান থেকে ভোক্তারা সঠিকভাবে পণ্যটি নিতে পারবে । আর তাই প্লেস নির্বাচনে কৌশল অবলম্বন করা উচিত । একটি ভাল প্লেস নির্বাচন ভাল মর্কেটিং এর জন্য অতীব জরুরী ।

প্রমোশন :

প্রমোশন হল পণ্যে বিক্রির সঠিকতম ধাপ । এ অংশে পণ্যটি মার্কেটিং এর জন্য যুগোপগী করা হয় । এর বেছে নেয়া হয় তৃতীয় কোন মাধ্যম , পোস্টারিং করা, টিভিতে এডভাটাইজিং এর ব্যবস্থা করা, লিফলেট বিলি , কোন অনুষ্ঠান করে বা কনসার্টের আয়োজন করে পণ্য সম্পর্কে সবইকে অবহিত করা ইত্যাদি বহুবিধ উপায়ে প্রমোশন করা যায়

উপরোক্ত আলোচনায় মাধ্যমে মার্কেটিং বিষয়ে ধারণা নেওয়ার পর এবার আমরা আলোকপাত করব ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর ।

Fundamentals of Digital Marketing

ডিজিটাল মার্কেটিং হল একটি ভার্চুয়াল মার্কেটপ্লেস , এখানে একটি প্লাটফরমকে ব্যবহার করে মার্কেটিং কার্যক্রমকে পরিচালিত করতে হয় । আর এ কাংখিত প্লাটফরমটি হল ইন্টারনেট । আর তাই ডিজিটাল মার্কেটিংকে ইন্টারনেট মর্কেটিং নামে অভিহিত করা হয় । সাধারণ মার্কেটিং ও ইন্টারনেট মার্কেটিং এর মধ্যে পার্থক্যর ভিত্তিতে ডিজিটাল মার্কেটিংকে পরিপূর্ণরূপে বিশ্লেষণ করা হল ।

প্রোডাক্ট:

নির্বাচিত প্রোডাক্ট  ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে রিলিভেন্ট কাস্টমারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া যায় । মানুষ কোন ধরণের পণ্য ইন্টারনেটে খুঁজে বা ব্যক্তি হিসেবে তার অভিব্যক্তি কি ? তার সবই লিস্ট হয়ে থাকে ইন্টারনেটে  , তাই প্রোডাক্টের রিলিভেন্ট কাস্টমার বের করে এ্যাড দেওয়া ইন্টারনেট মার্কেটিংয়েই সম্ভব

প্রাইস :

প্রাইসকে ডিজিটাল মার্কেটিং এমনভাবে ফোকাস করতে পারি যাতে কোন দালালচক্র একে নষ্ট না করতে পারে । ফিজিক্যাল মার্কেটিং বা সাধারণ মার্কেটিং এ প্রাইসকে হাইড করে প্রতারক চক্র প্রায়ই ফাদঁ ফেলে যা ডিজিটাল মার্কেটিং কোনভাবেই সম্ভবপর নয় ।

প্লেস :

ফিজিক্যাল ও ভার্চুয়াল দুটি প্লেসকে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে পণ্যের সেলকে দ্বিগুণ করে নিতে পারি ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে । ভার্চুয়াল প্লেসটি যদি আইকেচি করে গড়ে তুলতে পারি , তাহলে ফিজিক্যাল প্লেসের কাজটি হোম ডেলিভারির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারি । এরকম ওয়েব সাইটের সংখ্যা আমাদের দেশেও দিনকে দিন বাড়ছে । যেমন রকমারি.কম ; দারাজ .কম সহ অনেক ইকমার্স সাইট আছে যাদের কোন ফিজিক্যাল শপ নেই

প্রোডাক্ট প্রমোশন :

প্রডাক্ট প্রমোশনের এক বিশাল জগত ভার্চুয়াল ডিজিটাল মার্কেটিং । ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিশাল জগত থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্লাটফরম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব । তন্মধ্যে ফেসবুক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ।

ই- মেইল মার্কেটিং :

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাথে সর্বপ্রথম যে মিডিয়া যুক্ত হয় তা হলো ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা ই-মেইল । ই-মেইল ব্যবহার করে যে মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালিত হয় তা হলো ইমেইল মার্কেটিং । ই-মেইল মার্কেটিং করতে চাইলে ল্যান্ডিং পেইজ করে অথবা কোন থার্ড পার্টির কাছ থেকে মেইল কালেক্ট করতে হবে । ই-মেইল পোস্ট করার জন্য বিভিন্ন পেইড টুল পাওয়া যায় । তবে আমরা মাইক্রোসফট এর একটি চমৎকার কার্য ফলো করতে পারি যা একসাথে অনেককে মেইল দেওয়া যাবে । মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর এই সার্ভিসের নাম মেইল মার্জ ।Mailings থেকে Start Mail Merge ক্লিক করতে হবে, এরপর Selelect Recipients এ গিয়ে সম্পূর্ণ তথ্য দিতে হবে । অতঃপর মেইল মার্জ সম্পন্ন করতে হবে ।

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং  :

সার্চ ইঞ্জিন হল ইন্টারনেট মার্কেটিং এর এমন এক মাধ্যম যা ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজে আসতে সহায়তা করে । প্রাথমিকভাবে এ কাজ করতে পেইড মেথডে বা পিপিসি করতে হয় । সার্চ ইঞ্জিন মার্কের্টিং কমপক্ষে পাঁচটি মাধ্যমে এবং মেট্রিক্স ব্যবহার করে ওয়েবসাইট অপ্টিমাইজ করার জন্য । কিওয়ার্ড রিচার্স এবং অ্যানালাইসিস তিনটি ধাপে জড়িত সাইটকে নিশ্চিত করতে সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স করতে  এবং খুঁজতে  অধিক রিলিভেন্ট এবং পপোলার কিওয়ার্ড সাইটের জন্য । এ ধরণের কিওয়ার্ড  জেনারেট হয়ে  ট্রাফিকে পরিণত হয়  ।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং  । এটি করার জন্য  ডোমেইন হোস্টিং সম্পন্ন একটি সাইট বা ফ্রি ব্লগ সাইট লাগবে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এ দক্ষ হতে চাইলে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশনে পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকা লাগবে । কারণ সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং আর সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন একই সূত্রে গাঁথা।

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমজেশন এর ধরণগুলো হল ব্ল্যাক হ্যাট এসইও , হোয়াট হ্যাট এসইও, পেইড এসইও , অর্গানিক এসইও । ব্ল্যাক হ্যাট এসইওর নীতি বিরোধী , তাই এটা চিরতরে বর্জনীয় । পেইড এসইও অর্থের সাথে সমৃক্ত । কাজেই প্রথম অবস্থায় এই এসইও করব না । হোয়াইট হ্যাট এসইও ও অর্গানিক এসইওর ধরণ একই । এতে দুই ভাবে এসইও করা যায় । যথা :

  • অনপেইজ অপ্টিমাইজেশন
  • অফপেইজ অপ্টিমাইজেশন ।

অনপেইজ অপ্টিমাইজেশন :

ওয়েবসাইটের ভিতরে আমরা যা করি তা সবই হল অনপেইজ অপ্টিমাইজেশন । অনপেইজ অপ্টিমাইজেশনের কাজ গুলো হল মেটা ট্যাগ নির্ধারণ , কিওয়ার্ড রিচার্স , মেটা কিওয়ার্ড , কনটেন্ট রাইটিং , কনটেন্ট মোডিফায়ার , ইমেজ অল্টার ট্যাগ , ভিডিও অপ্টিমাইজেশন

অফপেইজ অপ্টিমাইজেশন :

অপপেইজ অপ্টিমাইজেশন এ মূলত ব্যাকলিংক করা হয় । আর এ পর্বের কাজ হল ফোরাম পোস্টিং , গেস্ট পোস্টিং , বিভিন্ন স্যোসাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমে কনটেন্ট শেয়ার করা ইত্যাদি

এ পর্যয়ে  সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং নিয়ে আলোকপাত করা হল । সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর পেতে হলে এর আ্যালগরিদম সম্পর্কে সুস্পস্ট ধারণা থাকতে হবে । বর্তমান সময়ের প্রাধান্য বিষয় হল কিওয়ার্ড সম্পন্ন ইউনিক কনটেন্ট । আর তাই কিওয়ার্ড সম্পন্ন ইউনিক প্রোডাক্ট রিভিউ লিখে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিটর বৃদ্ধি করতে পারি । অফপেইজ এসইও অনুসারে বিভিন্ন রিলিভেন্ট সাইটে ব্যাকলিংক করেও ভিজিটর বা ট্রাফিক আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়ে আসতে পারি ।

স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিং :

ডিজিটাল মার্কেটিং এ যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে । টিভির ঘন্টার পর ঘন্টা দর্শক হয়ে থাকার চেয়ে স্যোসাল মিডিয়াগুলোতে সময় কাটাতে মানুষ এখন বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে । আর তাই বিশ্বের সেরা কোম্পানিগুলোর নজর এখন স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিং এর দিকেই । তাই নতুনদের জন্যও এটা সেরা আদর্শ হিসেবে কাজ করবে । স্যোসাল মিডিয়া মোবাইলে ব্যবহার করতে পারার সুবিধার জন্য দিন দিন ব্যবহার বাড়ছে । দিনকে দিন এর ব্যবহার ক্রমাগত বাড়তে থাকলে একদিন স্যোসাল মিডিয়াই হবে অন্যতম বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম । আর সহজলভ্য এ মাধ্যমটি যদি হয় কারও জন্য আয়ের মাধ্যম, তাহলেতো এক ঢিলে দুই পাখি । হ্যা আমরা এখন সেইদিকেই নজর দেবো । কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্যোসাল মিডিয়া প্লাটফরমের ব্যবহার জানবো আমাদের এই আলোচনা থেকে ।

আমাদের বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ফেসবুককে ফান্ডমেন্টাল ধরে, এ বিষয়ে এ টু জেড আলোচনা করা হল যা আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে উদ্বুদ্ধ করবে ।

Facebook-Marketing

ফেসবুক :

ফেসবুক নামক স্যোসাল মিডিয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে সারা জাগানো স্যোসাল প্লাটফরম । ফেসবুক প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ৪ তারিখ । মার্ক জাকারবার্গ যখন হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতেন তখন তার কক্ষে ছিলেন কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিত্স এবং স্ক্রিস হিউজেস , সবাই মিলে তখন ফেসবুক তৈরি করেন তবে এর নেপথ্যে ছিল মার্ক জাকারবার্গ তাই তাকে ফেসবুকের জনক বলা হয় । মার্ক জাকারবার্গ যেহেতু হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতেন সেই সুবাদে প্রাথমিকভাবে ওয়েবসাইটটির সদস্য হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল , কিন্তু পরবর্তীতে সেটা বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ , আইভি লীগ ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিস্তার ঘটে ।পরবর্তীতে এটা ১৩ বছর থেকে শুরু করে হাই স্কুল , কলেজ , বিশ্ববিদ্যালয় এবং তদোর্ধ সকলের জন্য ওপেন করে দেয়া হয়

ফেসবুকের মজার ইতিহাস :

এবার ফেসবুকের একটা মজার ইতিহাস লক্ষ্য করি, মার্ক জাকারবার্গ যখন ২ য় বর্ষে র ছাত্র ছিলেন তখন অক্টোবর ২৮,২০০৩ ফেসবুকের পূর্বসূরি সাইট ফেসম্যাস তৈরি করেন । এতে তিনি ব্যবহার করেন হাভার্ডের ৯টি হাউসের শিক্ষার্থীদের ছবি ।তিনি দুইটি ছবি পাশাপাশি দেখিয়ে সবাইকে ভোট দিতে বলেন । তিনি এর নাম দেন ‘ হট অর নটঅর্থাৎ কোনটি হট আর কোনটি হট নয়

ফেসবুক আয় :

ফেসবুক বেশির ভাগ আয় করে থাকে বিজ্ঞাপন থেকে । ফেসবুকে সিটিআর হার কম অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে । একটি জনপ্রিয় বিজনেস সংবাদ মাধ্যম বিজনেসউইক.কম এর মতে যদিও সত্যিকার অর্থে বিশেষ তুলনায় এটা অসম হতে পারে কিন্তু ফেসবুকের ব্যানার বিজ্ঞাপন অন্য ওয়েবের তুলনায় পাচঁ ভাগের এক ভাগ ক্লিক পড়ে

 ফেসবুক বেটা উদ্ভাবন :

ফেসবুককে উন্নত রুপ দেওয়ার জন্য ফেসবুক বেটা সূচনা হয়েছিল ২০০৮ সালের ৩০ জুলাই কিছু নির্বাচিত নেটওয়ার্কে ।যা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছিল ব্যবহারকারির ইন্টারফেসে ।এতে সুসংহত করা হয় মিনিফিড এবং ওয়াল , আলাদা ট্যাবে ভাগ করা হয় প্রোফাইল এবং সর্বোপরি সুন্দর করার প্রচেষ্টা নেয়া হয় । প্রথম  অবস্থায় যাতে ব্যবহারকারী হতাশ না হন এজন্য পুরোনো এবং নতুন ফিচারের মধ্যে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়া হয় । পরবর্তীতে সবাইকে নতুন ফিচারের আওতাভুক্ত করা হয় । ১১ ডিসেম্বর ২০০৮ ফেসবুক অতি সাধরণ সাইনআপ বা রেজিস্ট্রেশন শুরু করে । তখন থেকে ফেসবুককে আর ফিরে তাকাতে হয়নি পুরো বিশ্বকে জয় করে বসে আছে ।

একটি আদর্শ ফেসবুক প্রোফাইলের নমুনা :

২০১১ সালের শেষের দিকে একক ব্যবহারকারি পাতার ফরমেটটি পুর্নগঠন করা হয় এবং সেটিই প্রোফাইল অথবা ব্যক্তিগত টাইমলাইন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে । এখানে প্রোফাইল ফটো , পারসোনাল ইন্টারেসটেড বিষয় , যোগাযোগ করার ঠিকানা , জীবনের স্মরনীয় সব ঘটনা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য , চাকুরির তথ্য সবই লিপিবদ্ধ করা যাবে ।

ফেসবুক পেইজ :

ফেসবুক পেইজ যাত্রা শুরু করে ২০০৭ সালে যাকে ফ্যান পেইজও বলা হয় । যার উদ্দেশ্যই ছিল ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যবসা বা তাদের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির সাথে ব্যক্তিগত প্রোফাইলগুলোর সাথে সম্পৃক্ত  করে দেওয়া । তারকা ব্যবহারকারীরাও তাদের ভেরিফাইড পেইজের মাধ্যমে তাদের ভক্তদের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে ।৬ ই নভেম্বর ২০০৭ সালের মধ্যেই ১০০০০০এর বেশি ইউসার এ সুবিধা নেয় ।

নিউজ ফিড:

২০০৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর নিউজ ফিড ফিচারটি সংযুক্ত হয় যা প্রতিটি ব্যবহারকারীর হোমপৃষ্ঠা হিসেবে আসে । এটি বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে যেমন প্রোফাইলের পরিবর্তন, আপকামিং কোন ইভেন্ট বা বন্ধুর বার্থডে ইত্যাদি । কিন্তু ব্যবহারকারীরা একে বাজেভাবে ব্যবহার করে ফলে অনেকের বিরক্তির কারণ হয়ে দ্বারায় । কিন্তু এখন অনেকটাই স্যোসাল হয়ে এসেছে, আর তাই এটা অনেকটাই আনন্দের কারণ হয়ে দ্বাড়িয়েছে । কারন স্প্যামারদের স্ট্যাটাসে দেখেই আনফ্রেইন্ড করা যায় ।

নোট:

আগষ্টের ২২ তারিখ ২০০৬ সালে ফেসবুক নোট চালু করা হয় , যা ব্লগিং ফিচার নিয়ে আবর্তন ঘটেছে । এখানে টাইটেল , ফিচার ইমেজ , লিংক দেওয়া সহ ব্লগিং এর সকল সুবিধা বিদ্যমান ।

চ্যাট :

৭ এপ্রিল ২০০৮ চ্যাট  এ্যাপ্লিকেশন প্রথম চালু হয় । যাতে একজনের সাথে আরেকজন বন্ধুর সাথে তথ্য আদান প্রদান করা যায়  যা সম্পূর্ণ গোপনীয়তার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয় ।

মার্কেটপ্লেস:

১৪মে ২০০৭সালের ফেসবুক বাজার বা মার্কেটপ্লেস চালু করে গ্রাহকদের উদ্দ্যেশে । এতে ব্যবহারকারীরা ফ্রি বিজ্ঞাপন দিতে পারে । বড় বড় মার্কেট বিশ্লেষকরা একে ক্রেইগলিস্টের সাথে তুলনা করেছে ।

বার্তা:

ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ফেসবুকের একটি একান্ত অ্যাপ যা ব্যবহার করে বার্তা প্রেরণ, ভিডিও কল, গ্রুপ কল সহ যেকোন সুবিধা এর মাধ্যমে পাওয়া যায় ।

ভয়েস কল:

২০১১ সালে এপ্রিল থেকে ফেসবুক ব্যবহারকারিরা লাইভ ভয়েস কল করতে পারেন ফেসবুক চ্যাট দিয়ে । যা দিয়ে সারা বিশ্বের ব্যবহারকারিরা একে অন্যের সাথে চ্যাট করতে পারেন। এই বৈশিষ্ট্য টি-মোবাইলের নতুন ববস্লেড সেবার আওতায় ফ্রি ব্যবহার করা যায় যার ফলে ব্যবহারকারিরা ভয়েস চ্যাট করতে পারে এবং ভয়েস বার্তা রেখে দিতে পারে।[

ভিডিও কল :

২০১১ সালের ৬ই জুলাই ফেসবুকের ভিডিও কল সেবা চালু করা হয় স্কাইপকে তাদের প্রযুক্তি অংশীদার করে। এতে স্কাইপ বেস্ট এপিআই ব্যবহার করে  কল করা যায়।

ভিডিও দেখা :

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফেসবুক ঘোষণা করে তারা প্রতিদিন ১ বিলিয়ন ভিডিও দেখার সুবিধা প্রদান করছে এবং ব্যবহারকারি, পাতা, এবং জনপ্রতিনিধিদের যে সব ভিডিও উন্মুক্ত সেগুলোর গণনা দেখাবে সবাইকে দেখার সুবিধা যোগ করবে। কোন ব্যবহারকারি একটি ভিডিও দেখার পর আরেকটি বাড়তি ভিডিও দেখার সুপারিশ করার বিষয়টি ফেসবুক নিশ্চিত করে। 

অনুসরণ :

২০১১ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর ফেসবুকে ব্যবহারকারি পাতায় “সাবস্ক্রাইব” বোতাম যোগ করে, যা অন্য ব্যবহারকারিদের সাবস্ক্রাইব করা এবং ব্যবহারকারির উন্মুক্ত পোস্টগুলো দেখার সুযোগ করে দেয়।

ইউটিউব মার্কেটিং :

ইউটিউব হল এমন একটি ওয়েব সাইট, যেখানে ভিডিও আদান-প্রদান করা হয় । এটি একটি ২.০ ওয়েব সাইট যা বর্তমান জগতের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট যা এর গ্রাহকদের ভিডিও আপলোড, ভিডিও দেখা, ডাউনলোড ও শেয়ারিং সুবিধা দিয়ে আসছে । ইউটিউবে আরো সুবিধার মধ্যে আছে ভিডিও সম্পর্কে মন্তব্য করার বা মতামত জানানোর । ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউটিউব প্রতিষ্ঠা করেন পেপ্যাল এর প্রাক্তন চাকুরীজীবি চ্যড হারলি, স্টিভ চ্যন আর বাংলাদেশী বংশদ্ভভত জাওয়েদ করিম ।

ইউটিউব মার্কেটিং ডিজিটাল মার্কেটিং এর এক যুগান্তকারী পদচারণা । বর্তমানে হিউম্যান বিহেবিয়ার কোন ব্লগ পড়ার থেকে ভিডিও দেখাতে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে, আর তাই মার্কেটিং করতে হলে বা পণ্যের প্রমোশন করতে চাইলে ভিডিও মার্কেটিং হল এক যুগান্তকারী পন্থা । কারণ ইউটিউবে একটি ভিডিও ভাইরাল করতে পারলে নিঃসন্দেহে একটি ভাল মাকেটিং হয়ে যাবে প্রোডাক্ট প্রমোশনের জন্য এবং ইউটিউব অ্যাডসেন্স আপনাকে দিবে একটি বাড়তি ইনকামের সুযোগ । আর এজন্য ইউটিউবকে বলা হয় অল ইন ওয়ান প্লাটফরম অর্থাৎ এখান থেকে প্রায় সকল মিডিয়াতে ট্রাফিক জেনারেট করা যায় । হতে পারে নিজস্ব ডোমেইন সাইট বা কোন অ্যাফিলিয়েশন সাইট বা সিপিএ মার্কেটিং সাইট বা অন্যান্য স্যোসাল মিডিয়া প্লাটফরম, সবই লিংক করানো যায় ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে ও ভেরিফাই করার মাধ্যমে ।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং : 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল এমন একটি মার্কেটিং ব্যবস্থা যেখানে একটি অ্যাফিলিয়েশন বিদ্যমান থাকে যার ফলশ্রুতিতে থার্ড পার্টি হিসেবে পণ্যের প্রমোশন করা যায় । আর এ কাজটি যিনি সম্পাদনা করেন তাকে বলা হয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার । অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার পণ্যের প্রমোশনের জন্য নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে থাকে । তাকে প্রডাক্ট বা সার্ভিস প্রমোশনের জন্য একটি ল্যান্ডিং পেইজ বা ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয় যাতে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের রিভিও লিখতে হয় । আর এজন্য তাকে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এবং স্যোসাল মার্কেটিং এ পারদর্শী হতে হয় । তাকে পেইড এবং ফ্রি দুটো মেথডে কাজ করার জন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয় ।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারকে যে বিষটি সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দিতে হয় তা হল কীওয়ার্ড রিচার্স । মূলত ভাল কীওয়ার্ড রিচার্স করতে পারলে একটি ভাল অ্যাফিলিয়েশন সার্ভিস প্রোভাইড করা সম্ভব । পরবর্তী যে কাজটি আয়ত্তে অনতে হবে তা হলো কনটেন্ট রাইটিং; এর বিকল্প হিসেবে কিছু আর বিদ্যমান নেই । এসব কিছু অর্জন না করতে পারলে বিকল্প হিসেবে অবশ্যই এক্সপার্ট হায়ার করতে হবে । অন্তত পক্ষে একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারকে সার্চ ইঞ্জন অপ্টিমাইজেশনে এক্সপার্ট হতে হবে ; তবেই এ সেক্টরে আসা উচিত

তবে অতিরিক্ত ভাবনার কিছু নেই একবার মনকে স্থির করতে পারলে অর্জন করাটা খুব একটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার নয় ।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনেক  আজ সফলতার শীর্ষে অবস্থান করছে । নাম না বললেই নয়, যেমন অ্যামাজন বর্তমানে শীর্ষ ধনী কোম্পানিদের মধ্যে একটি । আর এর নেপথ্যে রয়েছে, অ্যাফিলিয়েট মাকেটিং ব্যবস্থা । বিশ্বের সব নামীদামি কোম্পানিগুলো অ্যামাজন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের পণ্যগুলো সেল দিয়ে থাকে, আর তাই এখানে গড়ে ওঠেছে এক বিশাল বাজার এবং ক্রেতারা একসাথে অনেক পণ্য পেয়ে যাচাই বাছাই করার এক সুবর্ণ সুযোগ পায় এখান থেকে, যার ফলশ্রুতিতে পণ্য ক্রয়ে মনোযোগ বেশি থাকে । অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটাররা যে কাজটি করে থাকে তা হলো, পণ্যকে প্রমোশন করার জন্য সুন্দর একটি প্রোডাক্ট রিভিউ লিখে থাকে এবং ভাইরাল  ভিডিও মার্কেটিং করে ও অ্যামাজন থেকে ক্রয় করার জন্য লিংক বিল্ডিং করে থাকে, এতে করে ক্রেতারা রিভিউ পড়ে এবং ভিডিও দেখে ক্রয় করার  উদ্যোগ নেয় । আর এতে একটি এ্যাডভান্টেজ  হল, কোন ক্রেতা যদি লিংক ধরে অ্যামাজনে প্রবেশ করে এবং যদি কোন পণ্য কিনে তবে যে ওয়েব সাইটের লিংক ধরে পণ্য কিনবে সেই ওয়েবসাইটের নামে অটো কমিশন চলে যাবে যদি অ্যাফিলিযেশন আইডি চালু করা থাকে।

 

আধুনিক যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ । আর এ যুগকে আরও প্রানবন্তকারী হিসেবে যে প্লাটফরম দিনের পর দিন মার্কেটিং করে যাচ্ছে সেই জায়গাটুকু হল ডিজিটাল মার্কেটিং । এ যুগে এসে মার্কেটিং জগতকে ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যতীত চালিয়ে নেয়া আর সম্ভবপর নয় । আর এ কাজে যারা দিনের পর দিন শ্রম দিয়ে যাচ্ছে তারা ডিজিটাল মার্কেটার । আর বলা চলে ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবস্থায় এখন স্বর্ণযুগ চলছে, আপনিও হতে পারেন একজন ডিজিটাল মার্কেটার । তাই নিজেকে কৌশলী হিসেবে গড়ে তুলোন এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এ নিজেকে আত্মনিবেদন করুন । আর এভাবেই গড়ে উঠবে ডিজিটাল বিপ্লব, আশা রাখি সবাই একসাথে কাজ করলে এ যাত্রায় বাঙ্গালীরা সফল হবেই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে ।

Mithun Chandra Majumder


Mithun Chandra Majumder

Mithun Chandra Majumder, SEO expert in Bangladesh. I have been working in social media marketing for a long time. I have also a very good experience in affiliate marketing. I have been working in many different marketplaces with many expert people.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *