বেসিক লেভেল স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিং

স্যোসাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে যে মার্কেটিং ব্যবস্থা পরিচালিত হয়, তাকে স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিং বলে । বর্তমান বিশ্বে স্যোসাল মিডিয়া একটি জনপ্রিয় মার্কেটিং ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে । বিশেষ করে মোবাইল আ্যাপসে ব্যবহার করতে পারার কৌশল একে ভিন্ন মাত্রা দান করেছ । বর্তমানে টিভি দর্শকের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে, মাল্টিমিডিয়া মোবাইল ব্যবহারের কারণে । মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের ফলে ইন্টারনেট কানেক্টের মাধ্যমে মোবাইলেই তার সকল বিনোদনের চাহিদা মিটিয়ে ফেলতে পারে । কাজেই এটি যুগোপযোগী মাধ্যম যে কোন পণ্যের মার্কেটিং করার জন্য । স্যোসাল মিডিয়ার নাম বলতেই প্রথমেই বাঙ্গালীদের মনের ক্যানভাসে যে মিডিয়া উদ্দোলিত হয় তা হল ফেসবুক, পরক্ষণেই আসবে ইউটিউব । এর বাইরেও হাজারো স্যোসাল মিডিয়া ইন্টারনেটে বিদ্যমান আছে ।

তবে কয়েকটি পরিচিত ও জনপ্রিয় স্যেসাল মিডিয়ার মার্কেটিং এর কৌশল দেখিয়ে আমরা পুরো স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিংকে আপনার সামনে উপস্থাপন করব ।

ফেসবুক মার্কেটিং :

ফেসবুক মার্কেটিং আর সাধারণ মার্কেটিং এর মধ্যে পার্থক্য করলেই এটি আপনার কাছে পরিস্কার হবে । সাধারণ মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে বিজ্ঞাপন, ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট তৈরি করতে হবে । কিন্তু শত চেষ্টা করেও আপনি আপনার অ্যাড  আইকেসি করতে পারলেন না, এতে আপনার ইনভেস্ট করা অর্থ, কোন ভাবেই ফেরত পাবেন না । কিন্তু ফেসবুকে আপনি আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়ার নিমিত্তে একটি পেজ তৈরি করলেন, তা ততটা দর্শক নন্দিত হল না । কিছু সময় পর , তা আপনি পরিবর্তন করে আবার নতুন করে সাজাতে পারবেন । এমনকি কতজন ট্রাফিক আপনার পেইজ ভিজিট করল তাও আপনি নিজেই দেখতে পাবেন । এটা ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত একটা বাড়তি সুবিধা ।

Social-media-marketing

ফেসবুক পেইজ পরিচালনার ক্ষেত্রে আপনাকে কিছুটা কৌশলী হতে হবে । যেমন : আপনার প্রোডাক্টের নিশ বাছাই করতে হবে । এর জন্য কয়েকটি আইকোচ ছবি বাছাই করুন এবং তা পোস্ট করে দিন । আপনার নিশ রিলিটেড কিছু হাই অথরিটি সাইট নির্বাচন করুন এবং তাদের কনটেন্ট লিখা সাইটগুলো শেয়ার করুন নিয়মিত । এর মাঝে মাঝে আপনার পণ্যের অ্যাড  দিতে থাকুন । এই আইডিয়া আপনার জন্য অনেক ইফেকটিভ হবে । আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে সাধারণ যারা ভিউয়ার আছে তারা পণ্যের অ্যাড  পছন্দ করে না , তাই লক্ষ্য রাখতে হবে প্রচারটি যেন ইমোশনাল বা শিক্ষণীয় অথবা জাকজমক বিনোদনধর্মী হয় । কারণ মানুষ মূলত ফেসবুকে আসে বিনোদনের জন্য , এর পাশাপাশি সে ইমোশনাল বা শিক্ষণীয় বিষয় নিতে ভালবাসে । ফেসবুকে বিজনেস করতে হলে এর ফ্যান পেইজে ফ্যান সংখ্যা বাড়াতে হবে । এর জন্য দুটি মাধ্যমেই  করা যায় পেইড তথা বোস্টিং মাধ্যম বা ফ্রি মাধ্যমে । বেস্টিং করলে অবশ্যই ফিল্টারিং করে নিতে হবে, নিজের মধ্যে কনফিউসন থাকলে বিশেজ্ঞদের পরামর্শ নিবেন । কারণ এ কাজটি করার করার মাধ্যমেই আপনি আপনার টার্গেটেড কাস্টমার পাবেন । তবে প্রথম অবস্থায় ফ্রি মেথডে আপনি আপনার কার্যক্রম পরিচালিত করলে পরবর্তীতে বেটার রেজাল্ট পাবেন ।

ফ্রি মেথডটি একটু বেশি সময় নিয়ে করতে হবে । প্রথমে নিজের বন্ধুদের ইনভাইট পাঠাতে হবে । নিজের যারা ভাল বন্ধু, তাদেরও অন্যদের কাছে ইনভাইট পাঠানোর জন্য অনুরোধ করতে হবে । এভাবে ফ্যান পেজ বড় হতে থাকবে । তবে আপনি যদি ভালো পোস্ট নিয়মিত দিতে থাকেন , তাহলে আপনাকে আর ফ্যান খুজঁতে হবে না । ফ্যানরাই আপনার পেইজটি পড়ে এবং আপনার পোস্টগুলো পড়ে ফ্যান অপশনে লাইক দিয়ে যাবে । কাজেই পোস্টগুলো গুরুত্ব দিতে হবে । সবসমই আইকেচি ছবি সিলেকশন করতে হবে , প্রয়োজনে ভিডিও তৈরি করতে হবে  পেইজকে আইকেচি করতে । এটা অনুধাবন করতে হবে যে , বর্তমানে কোন পোস্ট পড়ার থেকে ভিডিও দেখতে মানুষ বেশি সাচ্ছন্দবোধ করে । আর তাই ভিডিওর প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে কারণ ট্রাফিক বাড়াতে এটা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে ।

টুইটার :

Social-media-marketing

টুইটারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো তাদের প্রোডাক্টের উপর ১৪০ ওয়ার্ডের একটি টুইট বার্তা প্রেরণ করে । কোম্পানির যারা ফলোয়ার থাকে তাদের সবার টাইমলাইনে বার্তাটি পৌছে যায় । টুইট ধারণ করতে পারে টেক্সট, হ্যাসট্যাগ, ফটো, ভিডিও, অ্যানিমেটেড গিফ, ইমোজি, ওয়েবসাইট বা প্রোডাক্টের লিংক । যা থেকে আপনার কোম্পানিতে ডিরেক্ট ট্রাফিক জেনারেট হবে। কাজেই একটি আইকেচি বা সুন্দর টুইট, অনেক ভ্যালু রাখে স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিং এ ।

লিঙ্কডইন :

Social-media-marketing

পেশাজীবিদের সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট লিঙ্কডইন হলেও এখানে রয়েছে প্রোডাক্ট প্রমোশনের ভিন্ন কৌশল । এখানে আপনার কোম্পানির কর্মী নিয়োগের সকল ডাটা পেশ করলেও প্রোডাক্টের লিংক দিয়ে দিতে পারবেন বা আপনার ওয়েব সাইট থেকেও শেয়ার করতে পারবেন । আর তাই প্রোডাক্ট প্রমোশনের জন্য লিঙ্কডইন একটি সেরা প্লাটফরম হিসেবে বিবেচিত ।

হোয়াটসঅ্যাপ :

Social-media-marketing

স্মার্টফোনের একটি জনপ্রিয় ম্যাসেঞ্জার মাধ্যম হল হোয়াইটসঅ্যাপ । একটু ভিন্ন ট্রটেজি ফলো করলে এখান থেকে আমরা একটি ভালো মানের স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিং সম্পন্ন করতে পারি । এখানে নেট কানেক্ট থাকলেই বার্তা প্রেরণ, ভিডিও ও অডিও কল করা যায় । আমাদের মূল মার্কেটিং হবে স্ট্যাটাস অপশনে, এখানে আমরা আমাদের প্রোডাক্টের প্রমোশনের জন্য অ্যাড দিবো । যা আমাদের সকল ফ্রেন্ডদের কাছে পৌছে যাবে, অনেকটাই ফেসবুকের মত । বার্তা প্রেরণ করে মার্কেটিংকে আরও সৌন্দর্যমন্ডিত করতে পারি ।

ইয়েল্প :

Social-media-marketing

বিজনেস প্রোফাইলকে ইনডেক্স করে রাখার জন্য ইয়েল্প একটি হাই অথরিটি সাইট । ইয়েলো পেজের মতো ব্যবসায়ের অবস্থান দ্বারা অনুসন্ধান করা যায় । ইয়েল্প ওয়েবসাইটটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডাসহ  সাতটি ভিন্ন দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে । বিজনেস একাউন্ট হোল্ডাররা অনুমতি পাবে বিজনেস প্রোফাইল তৈরি করতে, শেয়ার এবং ইডিট করতে । তারা ব্যবসায়ের অবস্থান, যোগাযোগের তথ্য, ছবি এবং সার্ভিস ইনফরমেশন পোস্ট করতে পারবে। ওয়েবসাইটটি ভিউয়ারদের লিখতে, ব্যবসা সম্পর্কে রিভিউ পোস্ট করতে এবং ৫তারকা বিশিষ্ট রেটিং দিতে অনুমতি দেয়। মেসেজিং ও আলাপ বৈশিষ্ট্যের কারণে ওয়েবসাইটি সবার জন্য একটি উপলব্ধ সাইট।

ইনস্টাগ্রাম :

বেশিরভাগ ব্র্যান্ডগুলো মোবাইল ফোনের ব্যাপকতা লক্ষ্য করে  তাদের বিপণন কৌশল উন্নত করার জন্য ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এর  দিকে ঝুঁকছে। সবার নজর কারতে আইকেচি সব প্রোডাক্টের ছবি তুলে লিংক দিয়ে দিতে পারি, ছবি যদি কারও ভালো লাগে এবং ক্লিক করে যেন সরাসরি ওয়েব সাইটে চলে আসতে পারে । এটি সহজে অ্যাক্সেস করা যায়  স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের দ্বারা, যার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাপল এবং অ্যানড্রয়েড ব্যবহার কারীরা এটি সহজেই চালনায় সমর্থন লাভ করে । তাছাড়া এটি ইন্টারনেটের মাধ্যমেও অ্যাক্সেস করা যায়। এইভাবে বাজারীরা তাদের ব্র্যান্ডের এক্সপোজার, বিশেষত ছোট লক্ষ্য গোষ্ঠীকে প্রসারিত করার জন্য সম্ভাব্য প্ল্যাটফর্ম হিসাবে এটি দেখতে পায়। বিপণনকারীরা স্যোসাল মিডিয়া ব্যবহার করে না শুধুমাত্র প্রথাগত বিজ্ঞাপনগুলির জন্য, তবে তারা নিদিষ্ট ব্র্যান্ডের জন্য মনোযোগ সৃষ্টি করার জন্য উৎসাহ দেয় ।

Social-media-marketing

এটি সাধারণত বৃহত্তর ব্র্যান্ড এক্সপোজারের জন্য একটি সুযোগ সৃষ্টি করে। অধিকন্তু, বিপণনকারীরা সামাজিক কেনাকাটা চালানোর জন্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এবং তাদের প্রিয় পণ্যগুলির ছবি সংগ্রহ ও ভাগ করার জন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। অনেক বড় নামীদামি কোম্পানি ইতিমধ্যেই মার্কেটিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে: স্টারবাক্স, এমটিভি, নাইকি, মার্ক জ্যাকবস এবং রেড বুল কয়েকটি উদাহরণ যা মোবাইল ফটো অ্যাপ্লিকেশনটির প্রথম দিক গ্রহণ করেছে। ইনস্টাগ্রামে নিজেদের শেয়ারিং করা ছবি এবং সংক্ষিপ্ত বার্তা মাধ্যম হিসাবে সকল গ্রাহকদের কাছে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফরম হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে । একটি সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, 71% বিশ্বের বৃহত্তম ব্র্যান্ডগুলি বর্তমানে একটি বিপণন চ্যানেল হিসেবে Instagram ব্যবহার করছে। কোম্পানীর জন্য, বর্তমান এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং যোগাযোগের জন্য Instagram ব্যবহার করা যেতে পারে অনাআসে । কোম্পানী তাদের ব্র্যান্ডের অধিক ছবি প্রদান করতে পারে আর এতে প্রমাণিত হয় যে, কোম্পানিটি সত্যিকারের কোন ফেক নয়, এতে নির্ভরযোগ্যতা বাড়ে । ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে, এতে এমন মনে হয় যে ঘটনাগুলো এখন ঘটেছে ।

স্ন্যাপচ্যাট:

স্ন্যাপচ্যাট হল একটি জনপ্রিয় মেসেজিং মাধ্যম এবং ছবি আদান প্রদান করার অ্যাপ্লিকেশন যা ২০১১সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ইভান স্পিগেল , ববি মারাফি , রেগরি ব্রাউনের তিনজন শিক্ষার্থী প্রথম তৈরি করেন ।অ্যাপ্লিকেশনটি প্রথম ডেভেলোপ করা হয়েছিল ব্যবহারকারীদের কাছে বার্তা পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার জন্য যা ১ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে উপলব্ধ করা হয়,এর বেশি যেন না হয় ।অ্যাপটি অতি দ্রুত স্যোসাল মিডিয়া সদস্যদের কাছে জায়গা করে নেয় এবং বর্তমানে ১৫৮মিলিয়ন এর বেশি লোক স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে প্রতিদিন ।একটি সমীক্ষা অনুযায়ী এটাও প্রতীয়মান হয় যে,ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ১৮ বার অ্যাপ্লিকেশনটি ওপেন করেন , যার অর্থ ব্যবহারকারীরা ২৫ থেকে ৩০ মিনিট প্রতিদিন অ্যাপ্লিকেশনটি চালান ।সামাজিক গণমাধ্যমের জন্য স্ন্যাপচ্যাট একটি নতুন মোবইল মিডিয়ার দিকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বেপরোয়া ও জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে ওঠেছে এর ভার্চুয়াল স্টিকার এবং উদ্দিপ্ত বাস্তবিক বস্তুর প্রয়োগ ইউজারদের উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব প্রদান করেছে ।আর এতসব ফিচার সম্পন্ন হওয়ার কারণে দিনকে দিন স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিংএ এর ব্যবহার বাড়ছে । এর মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রোডাক্টের ভিডিও দিয়ে এর সরাসরি ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়াতে পাড়ি । একটি আকষর্ণীয় ভিভিও তৈরী করে এর মার্কেটিং করতে পারলে অন্যান্য স্যোসাল মিডিয়া প্লাটফরম থেকে এখানে ভিজিটর বেশি পাওয়া যাবে ।

Social-media-marketing

কোন থার্ড পার্টি যেন স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারীর কোন তথ্য না নিতে পারে, সেজন্য সকল প্রকার প্রটেকশন এখানে আওতাভুক্ত করা হয় ।স্ন্যাপচ্যাটের সর্বশেষ সংস্করণটির পরিচিতি লাভ করে বেটা সংস্করণ কানেক্টেড অ্যাপ হিসেবে ।নতুন এই ফিচারটি স্ন্যাপচ্যাটের  ইকোসিস্টেমের মধ্যে থাকে ।এটি অন্যান্য স্যোসাল প্লাটরমের মত শেয়ারের কোন অপশন না থাকায় ব্যবহারকারীরা নিজেদের সেফ মনে করে । কারণ এখানে মুখোমুখি না হওয়ার কারণে কোন হুমকির ঘটনা ঘটে না , তাই ইউজাররা শত ভাগ সেফ মনে করে নিজেদের ।কাজেই এখানে লিংক বিল্ডিং করে অনেক ভাল মানের ট্রাফিক জেনারেট করা যায় । স্ন্যাপচ্যাটে প্রতিদিন এক মিলিয়ন স্ন্যাপ তৈরি হয় । আপলোড হওয়া স্ন্যাপচ্যাটের সংখ্যা ৪০০ মিলিয়নের বেশি । আর তাই বিজ্ঞাপন দাতারা তাদের বিজ্ঞাপন প্রদানেও আগ্রহী হয়ে উঠেছে ।

ইউটিউব :

ইউটিউব আর একটি জনপ্রিয় স্যোসাল মিডিয়া প্লাটফরম, যেখানে ভিডিও শেয়ারের মাধ্যমে এক বিশাল মার্কেটপ্লেস এবং ভিডিও দেখা এবং ডাউনলোড সুবিধার মাধ্যমে দর্শকপ্লেস বিরাজমান । এখানে ভিডিও মার্কেটিং করতে হলে কমার্শিয়াল ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করতে হবে, ভিডিও শৈলীর মাধ্যমে  দশর্কের কাছে প্রোডাক্টের বিবরণ তুলে ধরতে হয় । এখানে ভিডিও এবং ডেসক্রিপশনে প্রোডাক্ট এবং ওয়েবসাইটের লিংক স্থাপন করে সরাসরি ট্রাফিক জেনারেট করা যায় । এর অনন্য সব ফিচারের জন্য মার্কেটারদের কাছে এটি একটি অনন্য প্লাটফরম হিসেবে বিবেচিত ।  এর ধারাবাহিকতা আপনাকে মনোমুগ্ধ করবে যে, এই দেখে আপনার সার্চ দেওয়া কিওয়ার্ডের সাথে রিলিভেন্ট রেখেই ইউটিউব আপনাকে পরবর্তী ভিডিও প্রদর্শন করবে । ইউটিউব ভিডিও মার্কেটিং করেই শুধুমাত্র ট্রাফিক জেনারেট করা যায় না, এতে অ্যাড দিয়েও  ট্রাফিক জেনারেট করা যায় । কোম্পানিগুলো তাদের প্রোডাক্ট প্রমোট করতে চ্যানেল তৈরি করার সুযোগ পায় যেখানে তারা তাদের প্রোডাক্ট প্রমোশনের জন্য ভিডিও মার্কের্টিং করে বা ডেসক্রিপশনের মধ্যে লিংক বিল্ডিং করে ট্রাফিক জেনারেট করার।

Social-media-marketing

ইউটিউব ওয়েব ২.০ এর অন্যতম কর্ণধার যা বর্তমানে ইন্টারনেট মিডিয়ার অন্যতম ভিডিও শেয়ারিং সাইট হিসেবে পরিচিত । এই সাইটে যে কোন ভিডিও পর্যালোচনার জন্য কমেন্টবক্স বিদ্যমান । এই সাইটি প্রতিষ্ঠা করেন পেপ্যালের প্রাক্তন চাকুরিজীবি চ্যড হারলি, স্টিভ চ্যন আর বাংলাদেশী বংশদুভত জাওয়েদ করিম ।  পরবর্তীতে গুগল এর স্বত্বাধিকার নিয়ে নেয় এবং এটি গুগলের অন্যতম ওয়েবসাইট । বর্তমানে ইউটিউব মার্কেটিং এ বাড়তি ইনকাম সোর্স  হল ইউটিউব অ্যাডসেন্স যার মাধ্যমে ইনকামের এক বিশাল জগত । একটি ভাল মানের ভিডিও তৈরি করে প্রচুর ভিউয়ার তৈরি করে এর একটি মার্কেটিং সাইট তৈরি করা যায় । স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের একটি বিশাল প্লাটফরম অধিগ্রহণ করে আছে ইউটিউব মার্কেটিং । আমরা যদি ইউটিউব মার্কেটিং এ নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি তাহলে আমাদের আর পিছন দিকে ফিরে তাকাতে হবে না । কাজেই আমরা স্যোসাল মিডিয়ার এই প্লাটফরমটিকে আমাদের বাস্তবিক জীবনে বেশি গুরুত্ব দেব বিশেষ করে ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ারের শুরুতে । এজন্য অনেক সফটওয়্যার পাবো কিন্তু আমরা বেশি গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করব অ্যাডোবি প্রিমিয়ার প্রো , কারণ এতে ইউটিউব ভিডিও তৈরি করার পাশাপাশি অন্যান্য দরকারী ভিডিও তৈরি করতে পারবো ।

স্যোসাল বুকমার্কিং সাইট :

স্যোস্যাল মিডিয়া প্রমোশনের জন্য জনপ্রিয় স্যোসাল বুকমার্কিং সাইটগুলো হচ্ছে ডেলিসিয়াস, ডিগ, স্ল্যাসডট, ডাইগো, স্টাম্লুবুলপন এবং রেডিট । ইহার প্রত্যেকটি সাইটে যে কালেকশন বিদ্যমান থাকে তা ব্যবহারকারীরা অনেক ভাল মানের বলে বিস্বাস করে আর তাই এখানে যে লিংকগুলো বিল্ড আপ করা থাকে তাতে ব্যবহারকারীরা যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে ।এখানে রিলিভেন্ট সাইটে গিয়ে রিলিভেন্ট ওয়েবসাইট বা রিলিভেন্ট আর্টিকেল শো করতে হয় যাতে করে র‌্যাংকিং পাওয়া যায়, এতে করে দ্রুত ট্রাফিক জেনারেট করা যায় । এই ওয়েবসাইটগুলো অনেক হাই র‌্যাংকধারী হয়ে থাকে যার ফলশ্রুতিতে অনেক ভাল মানের ট্রাফিক জেনারেট করা যায় । এসব ওয়েবসাইটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এখানে অনেক ব্লগার আছে যার ফলশ্রুতিতে প্রচুর কনটেন্ট পাবলিশ হয় এখান থেকে । ওয়েব সাইটের ভিতরেও কনটেন্টগুলোর মধ্যে একটি প্রতিযোগীতা চলে । ভাল মানের একটি কনটেন্ট রিপ্রেজেন্ট করতে পারলে এবং ওয়েবসাটের ভেতরে যে প্রতিযোগীতা তার মধ্যে প্রথম সারিতে অবস্থান করতে পারলে খুব দ্রুত ওয়েবসাইটকে রাংক এনে দেওয়া যায় । এভাবে যত বেশি ব্যাকলিংক করা যায় তত ওয়েবসাইটের জন্য ইফেকটিভ ভূমিকা পালন করে । ওয়েব সাইটকে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজে আনতে চাইলে ব্যাকলিংককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে, ব্যাকলিংক আপনার ওয়েবসাইটকে অনেক ভিজিটর দানে সক্ষম । স্যোসাল বুকমার্কিং সাইটগুলোতে পারলে প্রতিটি পোস্ট এবং প্রতিটি পেইজকে বুকমার্কিং করে রাখা ভালো এতে করে পেইজ রাংক বাড়বে , এতে করে ডোমেইন অথরিটিও বৃদ্ধি পাবে । আর এভাবে ডোমেইন অথরিটি যত বৃদ্ধি পাবে তত বেশি সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজে আসার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে । কারণ সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেইজ কনটেন্টকে প্রইরোটি বেশি দিলেও ডোমেইন অথরিটি বেশি সম্পন্ন সাইটকে বেশি ট্রাস্ট করে । আর তাই হাই ডোমেইন অথরিটি সাইটগুলো ভাল কন্টেট পাবলিশ করলে অতি দ্রুত সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজ নির্ণয়কারী যে বট আছে তার কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা লাভ করা যায় ।

Social-media-marketing

আর এখন বুঝতেই পারছেন একটি হাই অথরিটি সম্পন্ন স্যোসাল বুকমার্কিং সাইটে যদি আপনার কনটেন্টটি পাবলিশ করতে পারেন বা বুকমার্ক করতে পারেন, তা আপনার জন্য কতটা ইফেকটিভ হবে আর এতে যদি ওয়েবসাইটের লিংক বিল্ডিং করা তাহলে নিশ্চিত থাকেন যে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ভাল মানের ভিজিটর পাবেন ।

ব্লগস :

ব্লগ এমন একটি মাধ্যম যার সম্পূর্ণ অ্যাকসেস থাকে ব্লগারের নিয়ন্ত্রণে যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে ব্লগস একটি জনপ্রিয় স্যোসাল মিডিয়া প্লাটফরম । নিজের প্রতিভাকে ফুটিয়ে তুলতে এবং লেখনী শক্তিকে জাগ্রত করতে ব্লগস অন্যতম ভূমিকা পালন করে । পূর্বে মানুষ তার গবেষণালবদ্ধ জ্ঞান বই আকারে লিখে রাখত যা পড়ে অন্যেরা জানতে পারত । কিন্তু ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে তার আর প্রয়োজন নেই মানুষ এখন বই কিনে পড়াতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না কারণ সে যা জানতে চায় তা লিখে সার্চ বারে সার্চ দিলেই সে অনেক তথ্যবহুল সাইট পায় যেখান থেকে সে তার প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয় । আর তাই আমরা যদি আমাদের ব্লগে নিশ টার্গেট করে লেখালেখি করি তাহলে সহজেই সে সব মানুষের কাছে পৌছেঁ যাবো যাদের আমরা তথ্যটি জানাতে চাই । পূর্বে ভাল মানের একটি পুস্তক রচনা করলে যেমন সমাজে অনেক সমাদৃত হওয়া যেত ঠিক তেমনি ভাল মানের একটি ব্লগ রচনা করেও বর্তমানে অনেক সম্মান অর্জন করা যায় । আর তাই ব্লগ অন্যতম  স্যোসাল মিডিয়া প্লাটফরম ব্যবসাকে উন্নত করার জন্য । অর্থাৎ আমরা যদি ভাল মানের অনেকগুলো ব্লগ তৈরি করতে পারি, আমাদের ওয়েবসাইট রিলেটেড করে, তবে সেখানে আমরা আমাদের মেইন ওয়েবসাইটের লিংক বিল্ডিং করি, তাহলে অনেক ট্রাফিক জেনারেট হবে ।

Social-media-marketing

আমরা চেষ্টা করব ওয়েব ২.০ বিশিষ্ট হাই অথরিটি সাইটগুলোতে ব্লগ তৈরি করতে, কারণ সার্চ ইঞ্জিন হাই অথরিটিতে থাকা ভাল মানের কনটেন্টগুলোকে আগে প্রাধান্য দেয় । আর তাই সেখানে ব্লগ করে যদি ভাল মানের কনটেন্ট পাবলিশ করতে পারি, তাহলে দ্রুত সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেইজে স্থান করে নিতে পারব । যদি আমাদেরই করা ব্লগের কোন পোস্ট যদি সার্চ ইঞ্জন রেজাল্ট পেজে আসে এবং সেখানে যদি আমাদের মেইন ওয়েবসাইটের লিংক বিল্ডিং করা থাকে তাহলে একদিকে যেমন ট্রাফিক জেনারেট হবে আবার মেইন ওয়েবসাইটের ডোমেইন অথরিটিও বেড়ে যাবে । আর এভাবেই তৈরি হবে লিংক হুইল, আর এটি ওয়েবসাইটের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে যা আমাদের ওয়েবসাইটের  জন্য ইফেকটিভ হবে । ব্লগকে সর্বেচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে, ওয়েব সাইটকে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেইজে  স্থান করে নিতে চাইলে ।

টাম্বলার :

টাম্বলার একটি মাইক্রোব্লগিং এবং সামাজিক নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট যা ডেভিড কার্প দ্বারা ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে ইয়াহুর মালিকানাধীন চলে যায় । টাম্বলার আমাদের অনেকের কাছেই অপরিচিত মুখ তাই এর ইন্টারফেস সম্পর্কে প্রথমে আলোকপাত করা হল যাতে করে, এটি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা চলে আসে ।

Social-media-marketing

ড্যাসবোর্ড :

সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য প্রাথমিক সরঞ্জাম হল ড্যাসবোর্ড । ইহা একটি চলমান টাইমলাইন যা ব্যবহারকারীরা অনুসরণ করে । ড্যাসবোর্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মন্তব্য করার সুযোগ পায় এবং সাথে বিদ্রুপ করারও , আর সাথে আর একটি সুযোগ পায় তা হলো ব্লগের পোস্টগুলো পছন্দ করার । ড্যাসবোর্ড ব্যবহারকারীকে অনুমতি দেয় আপলোড করতে টেক্সট পোস্ট , ইমেজ, ভিডিও , উদৃতি বা তাদের ব্লগের লিংকগুলো একটি ক্লিকেবল বাটন দ্বারা যা প্রদর্শন করে ড্যাসবোর্ডের উপরে । ব্যবহারকারীরা তাদের ব্লগে টুইটার এবং ফেসবুক একাউন্ট সংযোগ করার সুযোগ পায়, যার ফলশ্রুতিতে তারা যখন একটি পোস্ট করে তা সাথে সাথে ফেসবুক এবং টুইটার একাউন্টে আপডেট করার সুযোগ পায়।

কিও বা সারি :

ব্যবহারকারীরা একটি সময়সূচী সেট করতে সক্ষম পোস্টগুলোর বিলম্বের জন্য । তারা তাদের পোস্টগুলো কয়েক ঘন্টা বা দিনের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে পারবে ।

ট্যাগ :

ব্যবহারকারীরা ট্যাগ গুলো যুক্ত করে তাদের পাঠ্যগুলোকে নির্দিষ্ট বিষয়গুলি সম্পর্কে পোস্টগুলো খুজেঁ পেতে সহায়তা করে । কেউ যদি তাদের ব্লগে একটি পিকচার আপলোড করতে চান এবং পিকচারটি তাদের ভিউয়ারদের খুজেঁ পাওয়াতে চান তার জন্য # ট্যাগটি পিকচারের সাথে জুড়ে দিতে হবে ।

এইচটিএমএল ইডিটিং :

টাম্বলার তাদের ব্যবহারকারীদের ব্লগের চেহারা নিয়ন্ত্রণে এইটটিএমএল কোডিং সম্পাদনা করার অনুমতি পায় । এর পাশাপাশি কাস্টমার তাদের ব্লগের জন্য একটি কাস্টম ডোমেইন নির্বাচন করার সুযোগ পায় ।

এখন কিছুটা ধারণা এমনিতেই চলে এসেছে যে এখানে কতটা সুযোগ রয়েছে স্যোসাল মিডিয়া মার্কেটিং করার । এটা এমন একটি প্লাটফরম যা ডিজাইন করার সুযোগ রয়েছে এবং সবচাইতে বড় বিষয় এটা একটা ২.০ সাইট । টাম্বলার স্যোসাল মিডিয়া প্লাটফরমে ভাল মানের কনটেন্ট লিখে পাবলিশ করতে পারলে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেইজে আসা অনেকটাই সহজ প্রতিপন্ন হয় এবং আমদের ওয়েবসাইটের লিংক বিল্ডিং করলে ডোমেইন অথরিটি এবং পেইজ অথরিটি অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে ।

Social-media-marketing


Mithun Chandra Majumder

Mithun Chandra Majumder, SEO expert in Bangladesh. I have been working in social media marketing for a long time. I have also a very good experience in affiliate marketing. I have been working in many different marketplaces with many expert people.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *